Job PreparationMathematical Reasoning (গাণিতিক যুক্তি)

অধ্যায় ১: বাস্তব সংখ্যা, মৌলিক সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু | বিসিএস ও চাকরির গাণিতিক যুক্তি

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাস্তব সংখ্যা, মৌলিক সংখ্যা, বিভাজ্যতার নিয়ম এবং ল.সা.গু ও গ.সা.গু থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ২ থেকে ৩টি প্রশ্ন নিশ্চিত থাকে। এই অধ্যায়টি পুরো গণিতের মূল ভিত্তি।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

Table of Contents

১. বাস্তব সংখ্যার শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Real Numbers)

সকল মূলদ ও অমূলদ সংখ্যাকে একত্রে বাস্তব সংখ্যা (Real Numbers – R) বলে।

ক. মূলদ সংখ্যা (Rational Numbers):

যে সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার ভগ্নাংশ p/q আকারে প্রকাশ করা যায় (যেখানে q ≠ ০) তাকে মূলদ সংখ্যা বলে।

  • সকল পূর্ণসংখ্যা (… -২, -১, ০, ১, ২, ৩ …) মূলদ সংখ্যা।
  • সকল সাধারণ ভগ্নাংশ ও সসীম দশমিক (যেমন: ০.৫, ২.৭৫) মূলদ সংখ্যা।
  • আবৃত দশমিক বা পৌনঃপুনিক সংখ্যা মূলদ সংখ্যা (যেমন: ০.৩̇ = ১/৩, ০.১৮̇ = ২/১১)।
  • পূর্ণবর্গ সংখ্যার বর্গমূল মূলদ সংখ্যা (যেমন: √৪ = ২, √৯ = ৩, √১৬ = ৪)।

খ. অমূলদ সংখ্যা (Irrational Numbers):

যে সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত বা p/q আকারে প্রকাশ করা যায় না তাকে অমূলদ সংখ্যা বলে।

  • অসীম অনাবৃত দশমিক সংখ্যা অমূলদ (যে দশমিকে সংখ্যার কোনো পৌনঃপুনিক পুনরাবৃত্তি হয় না)।
  • পূর্ণবর্গ নয় এমন যেকোনো স্বাভাবিক সংখ্যার বর্গমূল অমূলদ সংখ্যা (যেমন: √২, √৩, √৫, √৭, √১১, √১২)।
  • গাণিতিক ধ্রুবক π (পাই) এবং e অমূলদ সংখ্যা (তবে এর আসন্ন ভগ্নাংশ মান ২২/৭ একটি মূলদ সংখ্যা)।
💡 ম্যাজিক শর্টকাট টেকনিক (১০ সেকেন্ড মেথড): ম্যাজিক শর্টকাট টেকনিক (মূলদ বনাম অমূলদ চেনার উপায়):

১. রুটের ভিতরের সংখ্যাটি কি পূর্ণবর্গ? হ্যাঁ হলে -> মূলদ (যেমন √২৫ = ৫)।

২. রুটের ভিতরের সংখ্যাটি পূর্ণবর্গ না হলে -> অমূলদ (যেমন √৭, √৮)।

৩. পৌনঃপুনিক থাকলে -> মূলদ; অসীম পর্যন্ত এলোমেলো সংখ্যা চললে -> অমূলদ।


২. মৌলিক সংখ্যা ও নির্ণয়ের কৌশল (Prime Numbers)

১ অপেক্ষা বৃহত্তর যে সকল সংখ্যার ১ এবং ওই সংখ্যা ছাড়া অন্য কোনো গুণনীয়ক বা উৎপাদক থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক সংখ্যা বলে।

১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা মনে রাখার মেমোরি কোড:

🔬 মেমোরি কার্ড: ম্যাজিক মেমোরি ডায়াল কোড: ৪৪ – ২২ – ৩২২ – ৩২১ (মোট ২৫টি মৌলিক সংখ্যা)
রেঞ্জ ডায়াল কোড মৌলিক সংখ্যাসমূহ মোট সংখ্যা
১ থেকে ১০ ৪ ২, ৩, ৫, ৭ ৪টি
১১ থেকে ২০ ৪ ১১, ১৩, ১৭, ১৯ ৪টি
২১ থেকে ৩০ ২ ২৩, ২৯ ২টি
৩১ থেকে ৪০ ২ ৩১, ৩৭ ২টি
৪১ থেকে ৫০ ৩ ৪১, ৪৩, ৪৭ ৩টি
৫১ থেকে ৬০ ২ ৫৩, ৫৯ ২টি
৬১ থেকে ৭০ ২ ৬১, ৬৭ ২টি
৭১ থেকে ৮০ ৩ ৭১, ৭৩, ৭৯ ৩টি
৮১ থেকে ৯০ ২ ৮৩, ৮৯ ২টি
৯১ থেকে ১০০ ১ ৯৭ ১টি
১ থেকে ১০০ যোগফল সর্বমোট মৌলিক সংখ্যা = ২৫টি ২৫টি

গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক তথ্য:

  • সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা: ২ (একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা)।
  • ১ সংখ্যাটি: মৌলিকও নয়, যৌগিকও নয় (এটি একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা)।
  • ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা: ১৫টি।
  • ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা: ১০টি।
  • ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা: ২১টি।

—

৩. বিভাজ্যতার সহজ নিয়মাবলি (Divisibility Rules)

  • ২ দ্বারা বিভাজ্য: শেষ অঙ্কটি জোড় (০, ২, ৪, ৬, ৮) হলে।
  • ৩ দ্বারা বিভাজ্য: সংখ্যাটির অঙ্কগুলোর যোগফল ৩ দ্বারা বিভাজ্য হলে।
  • ৪ দ্বারা বিভাজ্য: শেষ দুটি অঙ্ক দিয়ে গঠিত সংখ্যা ৪ দ্বারা বিভাজ্য হলে বা শেষে দুটি শূন্য (০০) থাকলে।
  • ৫ দ্বারা বিভাজ্য: শেষ অঙ্কটি ০ বা ৫ হলে।
  • ৯ দ্বারা বিভাজ্য: অঙ্কগুলোর যোগফল ৯ দ্বারা বিভাজ্য হলে।
  • ১১ দ্বারা বিভাজ্য: বিজোড় স্থানীয় অঙ্কগুলোর যোগফল এবং জোড় স্থানীয় অঙ্কগুলোর যোগফলের পার্থক্য ০ বা ১১-এর গুণিতক হলে।

—

৪. ল.সা.গু ও গ.সা.গু (LCM & GCD)

  • গ.সা.গু (Greatest Common Divisor): সাধারণ গুণনীয়কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি।
  • ল.সা.গু (Least Common Multiple): সাধারণ গুণিতকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট সংখ্যাটি।

মৌলিক সূত্রাবলি:

১. দুটি সংখ্যার গুণফল = সংখ্যাদ্বয়ের গ.সা.গু × সংখ্যাদ্বয়ের ল.সা.গু
২. ভগ্নাংশের গ.সা.গু:

লব (উপরে):   লবগুলোর গ.সা.গু
গ.সা.গু = ────────────────────────────
হর (নিচে): হরগুলোর ল.সা.গু

৩. ভগ্নাংশের ল.সা.গু:

লব (উপরে):   লবগুলোর ল.সা.গু
ল.সা.গু = ────────────────────────────
হর (নিচে): হরগুলোর গ.সা.গু

বিগত ১০ম থেকে ৫০তম বিসিএস-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমাধান

অঙ্ক ১: মৌলিক সংখ্যা সংক্রান্ত

প্রশ্ন: নিচের কোনটি মৌলিক সংখ্যা? [২৯তম ও ৪৩তম বিসিএস]

(ক) ৯১ (খ) ১৪৩ (গ) ৪৭ (ঘ) ৮৭

বিশ্লেষণ ও সমাধান:

  • ৯১ = ৭ × ১৩ (মৌলিক নয়)
  • ১৪৩ = ১১ × ১৩ (মৌলিক নয়)
  • ৮৭ = ৩ × ২৯ (মৌলিক নয়)
  • ৪৭ সংখ্যাটিকে ১ এবং ৪৭ ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায় না।

✓ সঠিক উত্তর: (গ) ৪৭


অঙ্ক ২: ল.সা.গু ও গ.সা.গু সূত্রের প্রয়োগ

প্রশ্ন: দুটি সংখ্যার গ.সা.গু ১১ এবং ল.সা.গু ৭,৭০০। একটি সংখ্যা ২৭৫ হলে, অপর সংখ্যাটি কত? [২৮তম ও ৪২তম বিসিএস]

ধাপভিত্তিক সমাধান:
আমরা জানি:
দুটি সংখ্যার গুণফল = গ.সা.গু × ল.সা.গু
বা, একটি সংখ্যা × অপর সংখ্যা = ১১ × ৭,৭০০

মান বসিয়ে পাই:

লব (উপরে):   ১১ × ৭,৭০০
অপর সংখ্যা = ──────────────────────────
হর (নিচে): ২৭৫

কাটাকাটি ধাপ:

  • ১১ দিয়ে ২৭৫-কে কাটলে হর হয় ২৫ (কারণ ২৭৫ ÷ ১১ = ২৫)।
  • এরপর ৭,৭০০-কে ২৫ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ৩০৮ (কারণ ৭,৭০০ ÷ ২৫ = ৩০৮)।

✓ নির্ণেয় অপর সংখ্যা = ৩০৮


অঙ্ক ৩: ঘণ্টার একত্রে বাজার সময় নির্ণয় (ল.সা.গু)

প্রশ্ন: পাঁচটি ঘণ্টা একত্রে বেজে যথাক্রমে ৩, ৫, ৭, ৮ ও ১০ সেকেন্ড পরপর বাজতে লাগল। কতক্ষণ পর ঘণ্টাগুলো পুনরায় একত্রে বাজবে? [২৭তম ও ৪১তম বিসিএস]

সমাধান:
ঘণ্টাগুলো পুনরায় একত্রে বাজার সময় হবে সংখ্যাগুলোর ল.সা.গু।
৩, ৫, ৭, ৮, ১০-এর ল.সা.গু নির্ণয়:

  • মৌলিক উৎপাদক বিশ্লেষণ: ল.সা.গু = ৮৪০ সেকেন্ড।
  • মিনিটে রূপান্তর: ৮৪০ ÷ ৬০ = ১৪ মিনিট।

✓ উত্তর: ১৪ মিনিট পর পুনরায় একত্রে বাজবে।


একনজরে কুইক রিভিশন সামারি

  • পূর্ণবর্গ সংখ্যার রুট মূলদ; বাকি সব রুট অমূলদ।
  • ১ মৌলিক সংখ্যা নয়; ক্ষুদ্রতম ও একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা হলো ২।
  • ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মোট মৌলিক সংখ্যা ২৫টি (কোড: ৪৪-২২-৩২২-৩২১)।
  • দুটি সংখ্যার গুণফল = তাদের গ.সা.গু × ল.সা.গু।
  • ঘণ্টা একত্রে বাজার বা ক্ষুদ্রতম সংখ্যা চাইলে সর্বদা ল.সা.গু করতে হয়।
  • বৃহত্তম সংখ্যা দিয়ে ভাগ করার কথা বললে সর্বদা গ.সা.গু করতে হয়।

📝 বিগত ১০ম-৫০তম বিসিএস ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার MCQ প্রশ্নব্যাংক

০১. নিচের কোন সংখ্যাটি একটি অমূলদ সংখ্যা?
(ক) √৯
(খ) √১৬
(গ) √২
(ঘ) ০.২৫

✓ সঠিক উত্তর: গ) √২
💡 ব্যাখ্যা: √২ এর মান ১.৪১৪২১৩৫… যা একটি অসীম অনাবৃত দশমিক সংখ্যা এবং একে দুটি পূর্ণসংখ্যার ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায় না। তাই এটি অমূলদ।
০২. ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মোট মৌলিক সংখ্যা কয়টি?
(ক) ৮টি
(খ) ৯টি
(গ) ১০টি
(ঘ) ১১টি

✓ সঠিক উত্তর: গ) ১০টি
💡 ব্যাখ্যা: ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যাগুলো হলো: ২, ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩, ১৭, ১৯, ২৩, ২৯। মোট ১০টি।
০৩. দুটি সংখ্যার গ.সা.গু ১৬ এবং ল.সা.গু ১৯২। একটি সংখ্যা ৪৮ হলে অপর সংখ্যাটি কত?
(ক) ৪৮
(খ) ৬৪
(গ) ৭২
(ঘ) ৮০

✓ সঠিক উত্তর: খ) ৬৪
💡 ব্যাখ্যা: অপর সংখ্যা = (গ.সা.গু × ল.সা.গু) ÷ একটি সংখ্যা = (১৬ × ১৯২) ÷ ৪৮ = ১৯২ ÷ ৩ = ৬৪।
০৪. কোন ক্ষুদ্রতম সংখ্যাকে ৪, ৫ ও ৬ দ্বারা ভাগ করলে প্রতি ক্ষেত্রে ৩ অবশিষ্ট থাকে?
(ক) ৫৭
(খ) ৬৩
(গ) ৬৭
(ঘ) ৭৩

✓ সঠিক উত্তর: খ) ৬৩
💡 ব্যাখ্যা: ৪, ৫ ও ৬ এর ল.সা.গু = ৬০। ক্ষুদ্রতম সংখ্যাটি হবে = ল.সা.গু + অবশিষ্ট = ৬০ + ৩ = ৬৩।
০৫. কোন বৃহত্তম সংখ্যা দ্বারা ২৭, ৪০ ও ৬৫ কে ভাগ করলে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫ অবশিষ্ট থাকবে?
(ক) ৮
(খ) ১০
(গ) ১২
(ঘ) ১৬

✓ সঠিক উত্তর: গ) ১২
💡 ব্যাখ্যা: সংখ্যাগুলো থেকে অবশিষ্ট বিয়োগ করি: ২৭-৩ = ২৪, ৪০-৪ = ৩৬, ৬৫-৫ = ৬০। এখন ২৪, ৩৬ ও ৬০ এর গ.সা.গু = ১২।
০৬. ৬০ ও ৮০ এর মধ্যবর্তী বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যার অন্তর কত?
(ক) ১২
(খ) ১৪
(গ) ১৬
(ঘ) ১৮

✓ সঠিক উত্তর: গ) ১৬
💡 ব্যাখ্যা: ৬০ এর ঠিক পরের ক্ষুদ্রতম মৌলিক সংখ্যা ৬১ এবং ৮০ এর আগের বৃহত্তম মৌলিক সংখ্যা ৭৯। অন্তর = ৭৯ – ৬১ = ১৬।
০৭. নিচের কোন ভগ্নাংশটি মূলদ সংখ্যা নির্দেশ করে?
(ক) √৩ / ২
(খ) π / ২
(গ) √১৬ / ৪
(ঘ) √৫ / ৩

✓ সঠিক উত্তর: গ) √১৬ / ৪
💡 ব্যাখ্যা: √১৬ / ৪ = ৪ / ৪ = ১, যা একটি পূর্ণসংখ্যা তথা মূলদ সংখ্যা।
০৮. ৩/৪, ৪/৫ এবং ৫/৬ ভগ্নাংশগুলোর গ.সা.গু কত?
(ক) ১/৬০
(খ) ৬০
(গ) ১/১২
(ঘ) ১২

✓ সঠিক উত্তর: ক) ১/৬০
💡 ব্যাখ্যা: ভগ্নাংশের গ.সা.গু = লবগুলোর গ.সা.গু ÷ হরগুলোর ল.সা.গু। লব (৩, ৪, ৫) এর গ.সা.গু = ১; হর (৪, ৫, ৬) এর ল.সা.গু = ৬০। সুতরাং গ.সা.গু = ১/৬০।
০৯. পরপর তিনটি বিজোড় সংখ্যার যোগফল ৫৭ হলে, মধ্যম সংখ্যাটি কত?
(ক) ১৭
(খ) ১৯
(গ) ২১
(ঘ) ২৩

✓ সঠিক উত্তর: খ) ১৯
💡 ব্যাখ্যা: ধরি সংখ্যা তিনটি x, x+২, x+৪। যোগফল ৩x+৬ = ৫৭ => ৩x = ৫১ => x = ১৭। মধ্যম সংখ্যা = ১৭+২ = ১৯। (শর্টকাট: ৫৭ ÷ ৩ = ১৯)।
১০. নিচের কোন সংখ্যাটি ৩ ও ৯ উভয় দ্বারা বিভাজ্য?
(ক) ১২৩৪৫
(খ) ৫৪০৩৬
(গ) ৭৭৭৭৭
(ঘ) ৮১২০৪

✓ সঠিক উত্তর: খ) ৫৪০৩৬
💡 ব্যাখ্যা: ৫৪০৩৬ এর অঙ্কগুলোর যোগফল = ৫+৪+০+৩+৬ = ১৮, যা ৯ এবং ৩ উভয় দ্বারা বিভাজ্য। সুতরাং সংখ্যাটিও বিভাজ্য।
👨‍🏫
Mohammad Sakhaoat Hosain
Instructor (English), Hajiganj Government Technical School and College
Former Lecturer in English, Dhaka International University (DIU)

Related Articles

Back to top button