অধ্যায় ৫: বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক চুক্তি | বিসিএস ভূগোল
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভূগোল ও পরিবেশ অংশে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন অধ্যায়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাস, ওজোনস্তরের অবক্ষয়, রামসার কনভেনশন, মন্ট্রিল ও কিয়োটো প্রটোকল, প্যারিস চুক্তি এবং বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১. বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য (Weather vs Climate)
- আবহাওয়া (Weather): কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের (সাধারণত ২৪ ঘণ্টা বা ১ থেকে ৭ দিন) বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা—যেমন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত।
- জলবায়ু (Climate): কোনো বিস্তৃত অঞ্চলের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ বছরের সামগ্রিক আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- আবহাওয়ার উপাদানসমূহ: বায়ু উত্তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা এবং বারিপাত (বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা)।
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: আবহাওয়া বনাম জলবায়ু
⏱️ আবহাওয়া: স্বল্পকালীন (দৈনিক পরিবর্তনশীল) | 🌍 জলবায়ু: দীর্ঘকালীন (৩০-৩৫ বছরের গড় অবস্থা)।
📌 আবহাওয়া হলো ক্ষণস্থায়ী মেজাজ, আর জলবায়ু হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিত্ব!
২. জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকসমূহ (Factors of Climate)
১. অক্ষাংশ (Latitude): নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে তাপমাত্রা বেশি; মেরুর দিকে তির্যকভাবে পড়ে বলে তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পায়।
২. উচ্চতা (Altitude): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১,০০০ মিটার (১ কিমি) উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা প্রায় ৬.৪° সেলসিয়াস বা প্রতি ১,০০০ ফুটে ৩.৫° ফারেনহাইট হারে হ্রাস পায় (Normal Lapse Rate)।
৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from Sea): সমুদ্রের কাছাকাছি সমভাবাপন্ন জলবায়ু (Maritime) এবং সমুদ্র থেকে দূরে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (Continental) বিরাজ করে।
৪. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত (Wind & Ocean Currents): উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উপকূলকে উষ্ণ এবং শীতল স্রোত উপকূলকে শীতল রাখে।
৫. পর্বতের অবস্থান: আর্দ্র বায়ুর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন—চেরাপুঞ্জি) এবং অনুবাত ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি করে (যেমন—বাংলাদেশের রাজশাহী)।
৩. বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও ঋতুবৈচিত্র্য
- জলবায়ুর প্রকৃতি: বাংলাদেশ মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর (Tropical Monsoon Climate) অন্তর্গত। এর মূল বৈশিষ্ট্য—উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও মৃদু শীতকাল।
- বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য: ষড়ঋতুর দেশ হলেও জলবায়ুগতভাবে তিনটি প্রধান ঋতু পরিলক্ষিত হয়:
১. গ্রীষ্মকাল (মার্চ – মে): মার্চ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এপ্রিল উষ্ণতম মাস। এ সময় স্থানীয় পরিচলন বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় হয়।
২. বর্ষাকাল (জুন – অক্টোবর): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০-৮০% সংঘটিত হয়।
৩. শীতকাল (নভেম্বর – ফেব্রুয়ারি): উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। জানুয়ারি শীতলতম মাস।
🔥 সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ও উষ্ণতম মাস: এপ্রিল (লালপুর, নাটোর — রেকর্ড ৪৩.২° সে.)
❄️ শীতলতম মাস ও স্থান: জানুয়ারি (শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় — রেকর্ড ২.৬° সে.)
🌧️ সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: লালখান, জৈন্তাপুর, সিলেট (গড়ে ৫,৪০০ মিমি/বছর)
🏜️ সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: লালপুর, নাটোর (গড়ে ১,১৫০ মিমি/বছর — বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের প্রভাব)
৪. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস প্রভাব (Global Warming & Greenhouse Effect)
বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস পৃথিবীর বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপীয় অবলোহিত রশ্মি (Infrared Radiation) শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এই প্রক্রিয়াকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ (Greenhouse Gases – GHG):
১. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂): বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে (প্রায় ৬০-৬৫%)। জীবাশ্ম জ্বালানি দহন এর মূল উৎস।
২. মিথেন (CH₄): ধানক্ষেত, জলাভূমি, গবাদি পশু ও বায়োগ্যাস থেকে নিঃসৃত। তাপ ধারণ ক্ষমতা CO₂-এর চেয়ে প্রায় ২৫-২৮ গুণ বেশি।
৩. ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFCs): কৃত্রিম রাসায়নিক, রেফ্রিজারেটর, এসি ও অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত। ওজোন ক্ষয় ও উষ্ণায়ন উভয় ঘটায়।
৪. নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O): রাসায়নিক সার ও নাইট্রোজেনাস জ্বালানি থেকে আসে।
৫. জলীয় বাষ্প (H₂O vapor): প্রাকৃতিক গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।
৬. ওজোন (O₃): ট্রপোস্ফিয়ারিক ওজোন গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে।
৫. ওজোনস্তরের অবক্ষয় ও অ্যাসিড বৃষ্টি
ক. ওজোনস্তরের অবক্ষয় (Ozone Layer Depletion):
- অবস্থান: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) স্তরে (১৫-৩৫ কিমি উচ্চতায়)।
- কাজ: সূর্যের মারাত্মক ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B ও UV-C) শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।
- ক্ষতিকারক উপাদান: CFC (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড। CFC-এর একটি ক্লোরিন পরমাণু প্রায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে!
- পরিমাপ একক: ডবসন ইউনিট (Dobson Unit – DU)। ২২০ DU-এর নিচে নামলে তাকে ‘ওজোন গহ্বর’ (Ozone Hole) বলা হয়। প্রথম আবিষ্কৃত হয় অ্যান্টার্কটিকার আকাশে ১৯৮৫ সালে।
খ. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain):
- বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক pH প্রায় ৫.৬। বৃষ্টির পানির pH ৫.৬-এর নিচে নেমে গেলে তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
- মূল দায়ী গ্যাস: সালফার ডাই-অক্সাইড ($SO_2$) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$)। এগুলো পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$) ও নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) তৈরি করে।
—
৬. পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন
📊 বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন তুলনামূলক চার্ট ও বিশ্লেষণ:
| চুক্তি / কনভেনশন | গ্রহণের সাল ও স্থান | কার্যকর | মূল বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| রামসার কনভেনশন | ১৯৭১ (ইরানের রামসার) | ১৯৭৫ | আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি (Wetlands) ও জলচর পাখির আবাস সংরক্ষণ। |
| সিআইটিইএস (CITES) | ১৯৭৩ (ওয়াশিংটন) | ১৯৭৫ | বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ। |
| ভিয়েনা কনভেনশন | ১৯৮৫ (অস্ট্রিয়া) | ১৯৮৮ | ওজোনস্তর রক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক কাঠামো চুক্তি। |
| মন্ট্রিল প্রটোকল | ১৯৮৭ (কানাডা) | ১৯৮৯ | ওজোন ক্ষয়কারী রাসায়নিক দ্রব্য (CFCs) নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ। কিগালি সংশোধনী (২০১৬)। |
| বাসেল কনভেনশন | ১৯৮৯ (সুইজারল্যান্ড) | ১৯৯২ | বিপজ্জনক বর্জ্যের সীমান্ত পারাপার ও নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ। |
| ধরিত্রী সম্মেলন (UNCED) | ১৯৯২ (রিও ডি জেনিরো) | — | Agenda 21, UNFCCC এবং জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (CBD) গৃহীত হয়। |
| কিয়োটো প্রটোকল | ১৯৯৭ (জাপানের কিয়োটো) | ২০০৫ | গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে বাধ্যবাধকতা (Annex-I)। CDM ও কার্বন ট্রেডিং। |
| কার্টাগেনা প্রটোকল | ২০০০ (কলম্বিয়া/মন্ট্রিল) | ২০০৩ | জীবনিরাপত্তা ও জেনেটিক্যালি মডিফাইড জীবের (LMOs) নিরাপদ ব্যবহার। |
| প্যারিস চুক্তি (COP-21) | ২০১৫ (ফ্রান্সের প্যারিস) | ২০১৬ | বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২°C-এর অনেক নিচে এবং ১.৫°C-এ সীমিত রাখা। |
৭. গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা ও তহবিল
- UNEP (United Nations Environment Programme):
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালের স্টকহোম সম্মেলনের মাধ্যমে।
- সদর দপ্তর: নাইরোবি, কেনিয়া।
- IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change):
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৮ সালে WMO ও UNEP যৌথভাবে গঠন করে।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- ২০০৭ সালে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সাথে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
- গ্রিনপিস (Greenpeace):
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে।
- আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর: আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস।
- IUCN (International Union for Conservation of Nature):
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮ সাল। সদর দপ্তর: গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড। এটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির রেড ডাটা বুক (Red Data Book) প্রকাশ করে।
- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund – GCF):
- প্রতিষ্ঠিত: ২০১০ সালের COP-16 (কানকুন, মেক্সিকো) সম্মেলনে।
- সদর দপ্তর: সংদো, ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়নের প্রধান তহবিল।
—
৮. পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস
- ২ ফেব্রুয়ারি: বিশ্ব জলাভূমি দিবস (World Wetlands Day)
- ৩ মার্চ: বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস (World Wildlife Day)
- ২১ মার্চ: বিশ্ব বন দিবস (International Day of Forests)
- ২২ মার্চ: বিশ্ব পানি দিবস (World Water Day)
- ২৩ মার্চ: বিশ্ব আবহাওয়া দিবস (World Meteorological Day)
- ২২ এপ্রিল: বিশ্ব ধরিত্রী দিবস (Earth Day)
- ২২ মে: আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (International Day for Biological Diversity)
- ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day)
- ১৬ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সংরক্ষণ দিবস (World Ozone Day)
- ১৩ অক্টোবর: আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস (International Day for Disaster Risk Reduction)
—
৯. বাংলাদেশের জলবায়ু নীতি, ডেল্টা প্ল্যান ও জাতীয় উদ্যোগ
ক. ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ (Bangladesh Delta Plan 2100):
- অনুমোদন: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (NEC) কর্তৃক অনুমোদিত।
- সহায়তাকারী দেশ: নেদারল্যান্ডস।
- লক্ষ্য: আগামী ১০০ বছরে বন্যা, নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে খাদ্য ও পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- হটস্পট (৬টি): ১. উপকূলীয় অঞ্চল (Coastal Zone), ২. বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, ৩. হাওড় ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, ৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, ৫. নদী অঞ্চল ও মোহনা, ৬. নগর অঞ্চল।
খ. জলবায়ু তহবিল ও ট্রাস্ট:
- BCCTF (Bangladesh Climate Change Trust Fund): ২০০৯-১০ অর্থবছরে নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত প্রথম ট্রাস্ট ফান্ড।
- মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান (MCPP): বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকির দেশ (Vulnerable) থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির দেশে (Prosperous) রূপান্তরের কৌশলগত পরিকল্পনা।
গ. রামসার সাইট (Ramsar Sites in Bangladesh):
১. সুন্দরবন: ১৯৯২ সালের ২১ মে ৫৬০তম রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
২. টাঙ্গুয়ার হাওড়: ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ১,০৩১তম রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
বিগত BCS ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস এফেক্টের জন্য বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। [২৯তম বিসিএস]
২. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কোনটির?
উত্তর: CFC (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন) / মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের আপেক্ষিক ক্ষমতা CO₂ থেকে বহুগুণ বেশি। [৩৬তম বিসিএস]
৩. প্রশ্ন: ওজোনস্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)। [৩৮তম বিসিএস]
৪. প্রশ্ন: রামসার কনভেনশন কোন বিষয়ে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: জলাভূমি সংরক্ষণ (Wetlands Conservation)। [৪০তম বিসিএস]
৫. প্রশ্ন: ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ (GCF)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সংদো, ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া। [৩৭তম বিসিএস]
৬. প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকল কিসের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন। [৩২তম বিসিএস]
৭. প্রশ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোন তারিখে পালিত হয়?
উত্তর: ৫ জুন। [১০ম ও ২৪তম বিসিএস]
৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এ সমগ্র দেশকে কয়টি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: ৬টি হটস্পট। [৪৩তম বিসিএস]
একনজরে কুইক রিভিশন সামারি
- বায়ুমণ্ডলের ৩০-৩৫ বছরের গড় আবহাওয়া = জলবায়ু।
- প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাস = ৬.৪° সেলসিয়াস।
- ওজোনস্তর অবস্থিত = স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে; সুরক্ষার জন্য চুক্তি = মন্ট্রিল প্রটোকল (১৯৮৭)।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নে মূল গ্যাস = কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$); তাপ শোষণে অত্যন্ত শক্তিশালী = মিথেন ($CH_4$) ও CFC।
- অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী = $SO_2$ ও $NO_x$; বৃষ্টির pH < ৫.৬।
- রামসার সাইট = ২টি (সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওড়)।
- IPCC প্রতিষ্ঠিত = ১৯৮৮ সালে (নোবেল পায় ২০০৭ সালে); সদর দপ্তর = জেনেভা।
- UNEP সদর দপ্তর = নাইরোবি; GCF সদর দপ্তর = সংদো, দক্ষিণ কোরিয়া।
- বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ অনুমোদিত = ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮; হটস্পট = ৬টি।
📝 বিগত নিয়োগ পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ মডেল MCQ প্রশ্নব্যাংক
বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন থেকে বিগত বছরগুলোতে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো: