Geography, Environment & Disaster ManagementJob Preparation

অধ্যায় ৫: বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক চুক্তি | বিসিএস ভূগোল

বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভূগোল ও পরিবেশ অংশে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন অধ্যায়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাস, ওজোনস্তরের অবক্ষয়, রামসার কনভেনশন, মন্ট্রিল ও কিয়োটো প্রটোকল, প্যারিস চুক্তি এবং বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

Table of Contents

১. বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য (Weather vs Climate)

  • আবহাওয়া (Weather): কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের (সাধারণত ২৪ ঘণ্টা বা ১ থেকে ৭ দিন) বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা—যেমন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত।
  • জলবায়ু (Climate): কোনো বিস্তৃত অঞ্চলের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ বছরের সামগ্রিক আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
  • আবহাওয়ার উপাদানসমূহ: বায়ু উত্তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা এবং বারিপাত (বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা)।
🔬 ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড:
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: আবহাওয়া বনাম জলবায়ু

⏱️ আবহাওয়া: স্বল্পকালীন (দৈনিক পরিবর্তনশীল) | 🌍 জলবায়ু: দীর্ঘকালীন (৩০-৩৫ বছরের গড় অবস্থা)।

📌 আবহাওয়া হলো ক্ষণস্থায়ী মেজাজ, আর জলবায়ু হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিত্ব!


২. জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকসমূহ (Factors of Climate)

১. অক্ষাংশ (Latitude): নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে তাপমাত্রা বেশি; মেরুর দিকে তির্যকভাবে পড়ে বলে তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পায়।
২. উচ্চতা (Altitude): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১,০০০ মিটার (১ কিমি) উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা প্রায় ৬.৪° সেলসিয়াস বা প্রতি ১,০০০ ফুটে ৩.৫° ফারেনহাইট হারে হ্রাস পায় (Normal Lapse Rate)।
৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from Sea): সমুদ্রের কাছাকাছি সমভাবাপন্ন জলবায়ু (Maritime) এবং সমুদ্র থেকে দূরে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (Continental) বিরাজ করে।
৪. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত (Wind & Ocean Currents): উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উপকূলকে উষ্ণ এবং শীতল স্রোত উপকূলকে শীতল রাখে।
৫. পর্বতের অবস্থান: আর্দ্র বায়ুর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন—চেরাপুঞ্জি) এবং অনুবাত ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি করে (যেমন—বাংলাদেশের রাজশাহী)।


৩. বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও ঋতুবৈচিত্র্য

  • জলবায়ুর প্রকৃতি: বাংলাদেশ মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর (Tropical Monsoon Climate) অন্তর্গত। এর মূল বৈশিষ্ট্য—উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও মৃদু শীতকাল।
  • বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য: ষড়ঋতুর দেশ হলেও জলবায়ুগতভাবে তিনটি প্রধান ঋতু পরিলক্ষিত হয়:

১. গ্রীষ্মকাল (মার্চ – মে): মার্চ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এপ্রিল উষ্ণতম মাস। এ সময় স্থানীয় পরিচলন বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় হয়।
২. বর্ষাকাল (জুন – অক্টোবর): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০-৮০% সংঘটিত হয়।
৩. শীতকাল (নভেম্বর – ফেব্রুয়ারি): উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। জানুয়ারি শীতলতম মাস।

💡 শর্টকাট মেমোরি হ্যাক: শর্টকাট মেমোরি হ্যাক: বাংলাদেশের চরম জলবায়ু বিন্দু

🔥 সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ও উষ্ণতম মাস: এপ্রিল (লালপুর, নাটোর — রেকর্ড ৪৩.২° সে.)

❄️ শীতলতম মাস ও স্থান: জানুয়ারি (শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় — রেকর্ড ২.৬° সে.)

🌧️ সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: লালখান, জৈন্তাপুর, সিলেট (গড়ে ৫,৪০০ মিমি/বছর)

🏜️ সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: লালপুর, নাটোর (গড়ে ১,১৫০ মিমি/বছর — বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের প্রভাব)


৪. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস প্রভাব (Global Warming & Greenhouse Effect)

বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস পৃথিবীর বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপীয় অবলোহিত রশ্মি (Infrared Radiation) শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এই প্রক্রিয়াকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।

প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ (Greenhouse Gases – GHG):

১. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂): বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে (প্রায় ৬০-৬৫%)। জীবাশ্ম জ্বালানি দহন এর মূল উৎস।
২. মিথেন (CH₄): ধানক্ষেত, জলাভূমি, গবাদি পশু ও বায়োগ্যাস থেকে নিঃসৃত। তাপ ধারণ ক্ষমতা CO₂-এর চেয়ে প্রায় ২৫-২৮ গুণ বেশি।
৩. ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFCs): কৃত্রিম রাসায়নিক, রেফ্রিজারেটর, এসি ও অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত। ওজোন ক্ষয় ও উষ্ণায়ন উভয় ঘটায়।
৪. নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O): রাসায়নিক সার ও নাইট্রোজেনাস জ্বালানি থেকে আসে।
৫. জলীয় বাষ্প (H₂O vapor): প্রাকৃতিক গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।
৬. ওজোন (O₃): ট্রপোস্ফিয়ারিক ওজোন গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে।


৫. ওজোনস্তরের অবক্ষয় ও অ্যাসিড বৃষ্টি

ক. ওজোনস্তরের অবক্ষয় (Ozone Layer Depletion):

  • অবস্থান: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) স্তরে (১৫-৩৫ কিমি উচ্চতায়)।
  • কাজ: সূর্যের মারাত্মক ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B ও UV-C) শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।
  • ক্ষতিকারক উপাদান: CFC (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড। CFC-এর একটি ক্লোরিন পরমাণু প্রায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে!
  • পরিমাপ একক: ডবসন ইউনিট (Dobson Unit – DU)। ২২০ DU-এর নিচে নামলে তাকে ‘ওজোন গহ্বর’ (Ozone Hole) বলা হয়। প্রথম আবিষ্কৃত হয় অ্যান্টার্কটিকার আকাশে ১৯৮৫ সালে।

খ. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain):

  • বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক pH প্রায় ৫.৬। বৃষ্টির পানির pH ৫.৬-এর নিচে নেমে গেলে তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
  • মূল দায়ী গ্যাস: সালফার ডাই-অক্সাইড ($SO_2$) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$)। এগুলো পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$) ও নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) তৈরি করে।

—

৬. পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন

📊 বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন তুলনামূলক চার্ট ও বিশ্লেষণ:

চুক্তি / কনভেনশন গ্রহণের সাল ও স্থান কার্যকর মূল বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য
রামসার কনভেনশন ১৯৭১ (ইরানের রামসার) ১৯৭৫ আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি (Wetlands) ও জলচর পাখির আবাস সংরক্ষণ।
সিআইটিইএস (CITES) ১৯৭৩ (ওয়াশিংটন) ১৯৭৫ বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ।
ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৮৫ (অস্ট্রিয়া) ১৯৮৮ ওজোনস্তর রক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক কাঠামো চুক্তি।
মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৭ (কানাডা) ১৯৮৯ ওজোন ক্ষয়কারী রাসায়নিক দ্রব্য (CFCs) নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ। কিগালি সংশোধনী (২০১৬)।
বাসেল কনভেনশন ১৯৮৯ (সুইজারল্যান্ড) ১৯৯২ বিপজ্জনক বর্জ্যের সীমান্ত পারাপার ও নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ।
ধরিত্রী সম্মেলন (UNCED) ১৯৯২ (রিও ডি জেনিরো) — Agenda 21, UNFCCC এবং জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (CBD) গৃহীত হয়।
কিয়োটো প্রটোকল ১৯৯৭ (জাপানের কিয়োটো) ২০০৫ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে বাধ্যবাধকতা (Annex-I)। CDM ও কার্বন ট্রেডিং।
কার্টাগেনা প্রটোকল ২০০০ (কলম্বিয়া/মন্ট্রিল) ২০০৩ জীবনিরাপত্তা ও জেনেটিক্যালি মডিফাইড জীবের (LMOs) নিরাপদ ব্যবহার।
প্যারিস চুক্তি (COP-21) ২০১৫ (ফ্রান্সের প্যারিস) ২০১৬ বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২°C-এর অনেক নিচে এবং ১.৫°C-এ সীমিত রাখা।

৭. গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা ও তহবিল

  • UNEP (United Nations Environment Programme):
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালের স্টকহোম সম্মেলনের মাধ্যমে।
  • সদর দপ্তর: নাইরোবি, কেনিয়া।
  • IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change):
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৮ সালে WMO ও UNEP যৌথভাবে গঠন করে।
  • সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
  • ২০০৭ সালে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সাথে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
  • গ্রিনপিস (Greenpeace):
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে।
  • আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর: আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস।
  • IUCN (International Union for Conservation of Nature):
  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮ সাল। সদর দপ্তর: গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড। এটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির রেড ডাটা বুক (Red Data Book) প্রকাশ করে।
  • গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund – GCF):
  • প্রতিষ্ঠিত: ২০১০ সালের COP-16 (কানকুন, মেক্সিকো) সম্মেলনে।
  • সদর দপ্তর: সংদো, ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়নের প্রধান তহবিল।

—

৮. পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস

  • ২ ফেব্রুয়ারি: বিশ্ব জলাভূমি দিবস (World Wetlands Day)
  • ৩ মার্চ: বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস (World Wildlife Day)
  • ২১ মার্চ: বিশ্ব বন দিবস (International Day of Forests)
  • ২২ মার্চ: বিশ্ব পানি দিবস (World Water Day)
  • ২৩ মার্চ: বিশ্ব আবহাওয়া দিবস (World Meteorological Day)
  • ২২ এপ্রিল: বিশ্ব ধরিত্রী দিবস (Earth Day)
  • ২২ মে: আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (International Day for Biological Diversity)
  • ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day)
  • ১৬ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সংরক্ষণ দিবস (World Ozone Day)
  • ১৩ অক্টোবর: আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস (International Day for Disaster Risk Reduction)

—

৯. বাংলাদেশের জলবায়ু নীতি, ডেল্টা প্ল্যান ও জাতীয় উদ্যোগ

ক. ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ (Bangladesh Delta Plan 2100):

  • অনুমোদন: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (NEC) কর্তৃক অনুমোদিত।
  • সহায়তাকারী দেশ: নেদারল্যান্ডস।
  • লক্ষ্য: আগামী ১০০ বছরে বন্যা, নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে খাদ্য ও পানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • হটস্পট (৬টি): ১. উপকূলীয় অঞ্চল (Coastal Zone), ২. বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, ৩. হাওড় ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, ৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, ৫. নদী অঞ্চল ও মোহনা, ৬. নগর অঞ্চল।

খ. জলবায়ু তহবিল ও ট্রাস্ট:

  • BCCTF (Bangladesh Climate Change Trust Fund): ২০০৯-১০ অর্থবছরে নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত প্রথম ট্রাস্ট ফান্ড।
  • মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান (MCPP): বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকির দেশ (Vulnerable) থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির দেশে (Prosperous) রূপান্তরের কৌশলগত পরিকল্পনা।

গ. রামসার সাইট (Ramsar Sites in Bangladesh):

১. সুন্দরবন: ১৯৯২ সালের ২১ মে ৫৬০তম রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
২. টাঙ্গুয়ার হাওড়: ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ১,০৩১তম রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।


বিগত BCS ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর

১. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস এফেক্টের জন্য বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। [২৯তম বিসিএস]

২. প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কোনটির?
উত্তর: CFC (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন) / মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের আপেক্ষিক ক্ষমতা CO₂ থেকে বহুগুণ বেশি। [৩৬তম বিসিএস]

৩. প্রশ্ন: ওজোনস্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)। [৩৮তম বিসিএস]

৪. প্রশ্ন: রামসার কনভেনশন কোন বিষয়ে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: জলাভূমি সংরক্ষণ (Wetlands Conservation)। [৪০তম বিসিএস]

৫. প্রশ্ন: ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ (GCF)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সংদো, ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া। [৩৭তম বিসিএস]

৬. প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকল কিসের সাথে সম্পর্কিত?
উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন। [৩২তম বিসিএস]

৭. প্রশ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোন তারিখে পালিত হয়?
উত্তর: ৫ জুন। [১০ম ও ২৪তম বিসিএস]

৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এ সমগ্র দেশকে কয়টি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: ৬টি হটস্পট। [৪৩তম বিসিএস]


একনজরে কুইক রিভিশন সামারি

  • বায়ুমণ্ডলের ৩০-৩৫ বছরের গড় আবহাওয়া = জলবায়ু।
  • প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাস = ৬.৪° সেলসিয়াস।
  • ওজোনস্তর অবস্থিত = স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে; সুরক্ষার জন্য চুক্তি = মন্ট্রিল প্রটোকল (১৯৮৭)।
  • বৈশ্বিক উষ্ণায়নে মূল গ্যাস = কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$); তাপ শোষণে অত্যন্ত শক্তিশালী = মিথেন ($CH_4$) ও CFC।
  • অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী = $SO_2$ ও $NO_x$; বৃষ্টির pH < ৫.৬।
  • রামসার সাইট = ২টি (সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওড়)।
  • IPCC প্রতিষ্ঠিত = ১৯৮৮ সালে (নোবেল পায় ২০০৭ সালে); সদর দপ্তর = জেনেভা।
  • UNEP সদর দপ্তর = নাইরোবি; GCF সদর দপ্তর = সংদো, দক্ষিণ কোরিয়া।
  • বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ অনুমোদিত = ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮; হটস্পট = ৬টি।

📝 বিগত নিয়োগ পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ মডেল MCQ প্রশ্নব্যাংক

বিসিএস ও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন থেকে বিগত বছরগুলোতে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো:

০১. ওজোনস্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থান করে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(গ) মেসোস্ফিয়ার
(ঘ) থার্মোস্ফিয়ার

✓ সঠিক উত্তর: খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
💡 ব্যাখ্যা: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫-৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোনস্তর অবস্থিত, যা সূর্যের প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B ও UV-C) শোষণ করে।
০২. বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সর্বাধিক অবদান রাখে কোন গ্যাস?
(ক) মিথেন (CH4)
(খ) নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)
(গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
(ঘ) ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC)

✓ সঠিক উত্তর: গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
💡 ব্যাখ্যা: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড দায়ী। যদিও অন্যান্য গ্যাসের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, কিন্তু বায়ুমণ্ডলে CO2-এর সামগ্রিক পরিমাণ ও স্থায়িত্ব সর্বাধিক।
০৩. আন্তর্জাতিক রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention) মূলত কিসের সাথে সম্পর্কিত?
(ক) ওজোনস্তর রক্ষা
(খ) জলাভূমি ও জলচর পাখি সংরক্ষণ
(গ) বিপজ্জনক বর্জ্য অপসারণ
(ঘ) মরুকরণ প্রতিরোধ

✓ সঠিক উত্তর: খ) জলাভূমি ও জলচর পাখি সংরক্ষণ
💡 ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালে ইরানের রামসারে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রামসার কনভেনশন গৃহীত হয়। বাংলাদেশে দুটি রামসার সাইট রয়েছে: সুন্দরবন (১৯৯২) ও টাঙ্গুয়ার হাওড় (২০০০)।
০৪. ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপাদানসমূহ নিষিদ্ধকরণের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক মন্ট্রিল প্রটোকল কোন সালে গৃহীত হয়?
(ক) ১৯৮৫ সালে
(খ) ১৯৮৭ সালে
(গ) ১৯৯২ সালে
(ঘ) ১৯৯৭ সালে

✓ সঠিক উত্তর: খ) ১৯৮৭ সালে
💡 ব্যাখ্যা: ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এ দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস পালিত হয়।
০৫. জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক তহবিল ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ (GCF)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
(ক) জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
(খ) নাইরোবি, কেনিয়া
(গ) সংদো (ইনচন), দক্ষিণ কোরিয়া
(ঘ) নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

✓ সঠিক উত্তর: গ) সংদো (ইনচন), দক্ষিণ কোরিয়া
💡 ব্যাখ্যা: ২০১০ সালে কানকুন সম্মেলনে প্রতিষ্ঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (GCF)-এর সদর দপ্তর দক্ষিণ কোরিয়ার সংদো, ইনচনে অবস্থিত।
০৬. অ্যাসিড বৃষ্টির (Acid Rain) জন্য বায়ুমণ্ডলে প্রধানত কোন গ্যাস দুটি দায়ী?
(ক) CO2 ও CH4
(খ) SO2 ও NOx
(গ) CFC ও O3
(ঘ) CO ও H2

✓ সঠিক উত্তর: খ) SO2 ও NOx
💡 ব্যাখ্যা: শিল্প-কারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড গঠন করে অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়।
০৭. বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (Delta Plan 2100)-এ সমগ্র দেশকে কয়টি হটস্পটে ভাগ করা হয়েছে?
(ক) ৪টি
(খ) ৫টি
(গ) ৬টি
(ঘ) ৮টি

✓ সঠিক উত্তর: গ) ৬টি
💡 ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এ বাংলাদেশকে ৬টি জলবায়ু ও ভৌগোলিক হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে: উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওড় অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নদী ও মোহনা এবং নগর অঞ্চল।
০৮. জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা IPCC কোন সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে?
(ক) ১৯৯৭ সালে
(খ) ২০০৪ সালে
(গ) ২০০৭ সালে
(ঘ) ২০১৫ সালে

✓ সঠিক উত্তর: গ) ২০০৭ সালে
💡 ব্যাখ্যা: IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change) ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৭ সালে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখার জন্য আল গোরের সাথে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায়।
০৯. ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তির (COP-21) প্রধান লক্ষ্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি কত ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা?
(ক) ১.০° সেলসিয়াস
(খ) ১.৫° থেকে ২.০° সেলসিয়াসের নিচে
(গ) ২.৫° সেলসিয়াস
(ঘ) ৩.০° সেলসিয়াস

✓ সঠিক উত্তর: খ) ১.৫° থেকে ২.০° সেলসিয়াসের নিচে
💡 ব্যাখ্যা: ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২°C-এর অনেক নিচে রাখা এবং বৃদ্ধিকে ১.৫°C-এ সীমিত রাখার প্রচেষ্টা চালানো।
১০. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাসের স্বাভাবিক হার (Normal Lapse Rate) কত?
(ক) প্রতি ১০০০ মিটারে ৩.৫° সেলসিয়াস
(খ) প্রতি ১০০০ মিটারে ৫.০° সেলসিয়াস
(গ) প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪° সেলসিয়াস
(ঘ) প্রতি ১০০০ মিটারে ৯.৮° সেলসিয়াস

✓ সঠিক উত্তর: গ) প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪° সেলসিয়াস
💡 ব্যাখ্যা: ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১,০০০ মিটার (১ কিলোমিটার) উচ্চতায় বায়ুর তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ৬.৪° সেলসিয়াস হারে হ্রাস পায়।
👨‍🏫
Mohammad Sakhaoat Hosain
Instructor (English), Hajiganj Government Technical School and College
Former Lecturer in English, Dhaka International University (DIU)

Related Articles

Back to top button