অধ্যায় ৩: অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য | বিসিএস ও চাকরির ভূগোল
For competitive job exams (BCS, Bank, Primary), mastering ভৌত পরিবেশ শিলা পর্বত নদ-নদী প্রণালী is essential for scoring high. In this comprehensive study guide, all core rules, classification charts, and solved previous exam questions of ভৌত পরিবেশ শিলা পর্বত নদ-নদী প্রণালী are explained below.
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বৈশ্বিক ভৌত ভূগোল পৃথিবীর গঠন, শিলা, ভূমিরূপের পরিবর্তন এবং জলভাগের সঞ্চালন নিয়ে আলোচনা করে। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ‘অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য’ থেকে ২ নম্বর নিশ্চিত থাকে। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তর, বিভিন্ন প্রণালী ও বিশ্বের ভৌগোলিক চরম বিন্দুসমূহ এই অধ্যায়ের প্রধান বিষয়।
১. ভৌত পরিবেশ শিলা পর্বত নদ-নদী প্রণালী: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure of Earth)
পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠ পর্যন্ত প্রধান তিনটি স্তর রয়েছে:
1. অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক (Crust): সবচেয়ে পাতলা ও বাইরের কঠিন স্তর (গড়ে ১৬-৪০ কিমি)।
- সিয়াল (SiAl): মহাদেশীয় ভূত্বক (সিলিকন + অ্যালুমিনিয়াম)।
- সিমা (SiMa): মহাসাগরীয় ভূত্বক (সিলিকন + ম্যাগনেসিয়াম)।
2. গুরুমণ্ডল (Mantle): ভূত্বকের নিচ থেকে প্রায় ২,৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর। ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। উপরের অংশকে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (নমনীয় লাভা স্তর) বলে।
3. কেন্দ্রমণ্ডল (Core): কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৩,৪৮৬ কিমি বিস্তৃত। প্রধান উপাদান নিকেল ($Ni$) ও লোহা ($Fe$), তাই একে ‘নিফে’ (NiFe) স্তর বলে।
২. শিলা, খনিজ ও শিলাচক্র (Rocks and Minerals)
এক বা একাধিক খনিজের সমন্বয়ে শিলা গঠিত হয়। উৎপত্তির ভিত্তিতে শিলা ৩ প্রকার:
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: শিলার প্রকারভেদ ও উদাহরণ চার্ট
– ১. আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): পৃথিবীর আদিম শিলা (কোনো জীবাশ্ম থাকে না, স্ফটিকযুক্ত)।
– উদাহরণ: ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, পিউমিস, অবসিডিয়ান।
– ২. পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks): স্তরে স্তরে পলল জমে গঠিত শিলা। এতে জীবাশ্ম (Fossils) থাকে এবং কয়লা-পেট্রোলিয়াম পাওয়া যায়।
– উদাহরণ: বেলেপাথর, চুনাপাথর, কয়লা, শেল ও জিপসাম।
– ৩. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks): অতিরিক্ত তাপ ও চাপে আগ্নেয় বা পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়।
– চুনাপাথর ➔ মার্বেল
– বেলেপাথর ➔ কোয়ার্টজাইট
– কয়লা ➔ গ্রাফাইট ও হীরা
– গ্রানাইট ➔ নিস (Gneiss)
– শেল ➔ স্লেট
৩. পর্বত, মালভূমি ও নদীর ভূমিরূপ
1. পর্বতের প্রকারভেদ:
- ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains): ভূ-অভ্যন্তরে পার্শ্বচাপে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে সৃষ্টি হয় (যেমন: হিমালয়, রকি, আন্দিজ, আল্পস)।
- আগ্নেয় পর্বত (Volcanic): লাভার স্তূপে তৈরি (যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস, হাওয়াইয়ের মাওনা লোয়া)।
- স্তূপ পর্বত (Block Mountains): ভূ-আলোড়নে চ্যুতি ও স্তূপ আকারে সৃষ্টি (যেমন: ভারতের সাতপুরা, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট)।
- অবশিষ্ট পর্বত: ক্ষয়প্রাপ্ত প্রাচীন পর্বত (যেমন: ভারতের আরাবল্লী)।
2. নদীসৃষ্ট ভূমিরূপ:
- ক্ষয়জাত ভূমিরূপ: V-আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত (Canyon – যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন), জলপ্রপাত (নায়াগ্রা, অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত)।
- সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ: প্লাবন সমভূমি, অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, ব-দ্বীপ (Delta – বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ)।
—
৪. বারিমণ্ডল, প্রণালী, খাল ও অন্তরীপ
- প্রণালী (Strait): দুটি জলভাগকে যুক্ত এবং দুটি স্থলভাগকে পৃথককারী সংকীর্ণ জলপথ:
- জিব্রাল্টার প্রণালী: ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে; স্পেন (ইউরোপ) ও মরক্কোকে (আফ্রিকা) পৃথক করেছে।
- মালাক্কা প্রণালী: বঙ্গোপসাগর (ভারত মহাসাগর) ও দক্ষিণ চীন সাগরকে যুক্ত করেছে; মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে পৃথক করেছে।
- বাব এল মান্দেব: লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে (অর্থ: অশ্রুর দুয়ার)।
- হরমুজ প্রণালী: পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে (বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট)।
- বেরিং প্রণালী: এশিয়া (রাশিয়া) ও উত্তর আমেরিকাকে (আলাস্কা) পৃথক করেছে।
- পক প্রণালী: ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করেছে।
- আন্তর্জাতিক নৌ-খাল:
- সুয়েজ খাল (১৮৬৯): ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে (মিশর)।
- পানামা খাল (১৯১৪): আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে পৃথক করেছে)।
—
৫. বিশ্বের চরম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য (Superlatives)
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: বিশ্বের সেরা ভৌগোলিক রেকর্ডসমূহ
– দীর্ঘতম নদী: নীল নদ (৬,৬৫০ কিমি, আফ্রিকা)।
– বৃহত্তম নদী (জলপ্রবাহে): আমাজন নদী (দক্ষিণ আমেরিকা)।
– উচ্চতম জলপ্রপাত: অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত (৯৭৯ মিটার, ভেনিজুয়েলা)।
– গভীরতম সমুদ্র খাত: মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (চ্যালেঞ্জার ডিপ, প্রশান্ত মহাসাগর – প্রায় ১১,০৩৪ মিটার)।
– বৃহত্তম হ্রদ (ক্ষেত্রফলে): কাস্পিয়ান সাগর (লবণাক্ত)।
– গভীরতম ও প্রাচীনতম মিষ্টি পানির হ্রদ: বৈকাল হ্রদ (রাশিয়া)।
– বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি: সাহারা মরুভূমি (উত্তর আফ্রিকা)।
– বিশ্বের ছাদ (Roof of the World): পামির মালভূমি (তাজিকিস্তান)।
৬. Important Facts (দ্রুত রিভিশন চার্ট)
| ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য | বিশ্বের শীর্ষ স্থান ও দেশ |
|---|---|
| সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ | মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মিটার, নেপাল-চীন সীমান্ত) |
| দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণি | আন্দিজ পর্বতমালা (প্রায় ৭,০০০ কিমি, দক্ষিণ আমেরিকা) |
| বৃহত্তম ব-দ্বীপ | বাংলাদেশ (গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ) |
| সুয়েজ খাল জাতীয়করণ | ১৯৫৬ সালে (মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের) |
| পানামা খালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন | ১৯১৪ সালে |
৭. Summary (পরীক্ষার আগে দ্রুত দেখে নেওয়ার নোট)
- পৃথিবীর ৩টি স্তর: ভূত্বক (SiAl/SiMa), গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডল (NiFe)।
- আগ্নেয় শিলা আদিম শিলা (গ্রানাইট, ব্যাসল্ট); পাললিক শিলায় জীবাশ্ম থাকে; অতিরিক্ত তাপে ও চাপে মার্বেল, কোয়ার্টজাইট ও স্লেটে রূপান্তরিত হয়।
- হিমালয়, আল্পস ও রকি ভঙ্গিল পর্বত; ফুজিয়ামা আগ্নেয় পর্বত।
- জিব্রাল্টার প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিককে যুক্ত করেছে; সুয়েজ খাল লোহিত ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বিশ্বের গভীরতম স্থান; বৈকাল হ্রদ গভীরতম মিষ্টি পানির হ্রদ।
—
৮. বিগত বিসিএস ও চাকরির প্রশ্নব্যাংক
১. কোন শিলায় জীবাশ্ম (Fossils) পাওয়া যায়?
- উত্তর: পাললিক শিলায় [৪৪তম বিসিএস, ৩৫তম বিসিএস]।
২. চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
- উত্তর: মার্বেল [৪৩তম বিসিএস, ৩১তম বিসিএস]।
৩. জিব্রাল্টার প্রণালী কোন দুটি জলভাগকে যুক্ত করেছে?
- উত্তর: ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে [৪২তম বিসিএস, ২৯তম বিসিএস]।
৪. বিশ্বের গভীরতম সমুদ্র খাতের নাম কী?
- উত্তর: মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (চ্যালেঞ্জার ডিপ) [৪১তম বিসিএস]।
৫. সুয়েজ খাল কোন দুটি সাগরকে যুক্ত করেছে?
- উত্তর: ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর [৪০তম বিসিএস]।
৬. বিশ্বের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
- উত্তর: নীল নদ [৩৮তম বিসিএস]।