অধ্যায় ২: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা | বিসিএস ও চাকরির ভূগোল প্রস্তুতি
For competitive job exams (BCS, Bank, Primary), mastering প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংকেত is essential for scoring high. In this comprehensive study guide, all core rules, classification charts, and solved previous exam questions of প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংকেত are explained below.
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা’ পরিচ্ছেদ থেকে ২ নম্বর নিশ্চিত থাকে। ঘূর্ণিঝড় সংকেত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র, বন্যা ও ভূমিকম্প এবং প্রতিষ্ঠানসমূহ এই অধ্যায়ের প্রধান আকর্ষণ।
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংকেত: দুর্যোগের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য
- দুর্যোগ (Disaster): কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে সমাজে আকস্মিক বা মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে যখন স্থানীয় সম্পদ ও সক্ষমতা দিয়ে তার ক্ষতি সামাল দেওয়া যায় না।
- ঝুঁকি সমীকরণ (Risk Formula):
$$ ext{দুর্যোগ ঝুঁকি (Risk)} = rac{ ext{বিপদ (Hazard)} imes ext{সুরক্ষাহীনতা (Vulnerability)}}{ ext{সক্ষমতা (Capacity)}}$$
- শ্রেণিবিভাগ:
1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Disasters): ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, সুনামি, নদীভাঙন, খরা, টর্নেডো ও বজ্রপাত।
2. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ (Man-made Disasters): যুদ্ধবিগ্রহ, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দুর্ঘটনা, দাঙ্গা ও বাস্তুচ্যুতি (যেমন: রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট)।
২. ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও জলোচ্ছ্বাস
- সৃষ্টির শর্ত: গভীর সমুদ্রে পানির তাপমাত্রা $27^circ ext{C}$ এর বেশি হলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং কোরিওলিস বলের কারণে বাতাস কুন্ডলী পাকিয়ে কেন্দ্রে ছুটে আসে।
- উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড় ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে (Anticlockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) ঘোরে।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র (Eye of the Cyclone): কেন্দ্রের শান্ত, বৃষ্টিহীন ও সর্বনিম্ন বায়ুচাপযুক্ত বৃত্তাকার অংশকে ঝড়ের চোখ বলে।
- বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়সমূহ:
- ১২ নভেম্বর ১৯৭০ (ভোলা সাইক্লোন): বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ৩, প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ নিহত)।
- ২৯ এপ্রিল ১৯৯১: গতিবেগ ২২৫ কিমি/ঘণ্টা, প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত।
- সিডর (Sidr): ১৫ নভেম্বর ২০০৭ (ক্যাটাগরি ৪, গতিবেগ ২৬০ কিমি/ঘণ্টা)। সিডর একটি সিংহলী শব্দ, যার অর্থ ‘চোখ’।
- আইলা (Aila): ২৫ মে ২০০৯ (মালদ্বীপের নাম, অর্থ ‘ডলফিন’)।
- মোখা (Mocha – ২০২৩), রেমাল (Remal – ২০২৪)।
—
৩. ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ সংকেতসমূহ
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: সমুদ্রবন্দর বনাম নদীবন্দর সংকেত চার্ট
– সমুদ্রবন্দরের সংকেত (১ থেকে ১১ নম্বর):
– ১ নম্বর: দূরবর্তী সতর্ক সংকেত (জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে)।
– ২ নম্বর: দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত।
– ৩ নম্বর: স্থানীয় সতর্ক সংকেত (বন্দর এলাকা দমকা হাওয়ার কবলে পড়তে পারে)।
– ৪ নম্বর: স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত (বন্দর ঘূর্ণিঝড়কবলিত; ছোট জাহাজ নিরাপদ আশ্রয়ে যাবে)।
– ৫, ৬ ও ৭ নম্বর: বিপদ সংকেত (Danger Signal) (ঝড়ের গতিবেগ ৬২-৮৮ কিমি/ঘণ্টা)।
– ৮, ৯ ও ১০ নম্বর: মহাবিপদ সংকেত (Great Danger Signal) (ঝড়ের গতিবেগ ৮৯+ কিমি/ঘণ্টা)।
– ১১ নম্বর: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত।
– নদীবন্দরের সংকেত: ১ থেকে ৪ নম্বর পর্যন্ত (১ = সতর্ক, ২ = হুঁশিয়ারি, ৩ = বিপদ, ৪ = মহাবিপদ)।
৪. বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত
1. বন্যা (Flood):
- বাংলাদেশে ৩ ধরনের বন্যা হয়:
- মৌসুমি বন্যা (Monsoon Flood): ধীরগতির, দীর্ঘস্থায়ী (জুলাই-আগস্ট)।
- আকস্মিক বন্যা (Flash Flood): পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি (হাওর অঞ্চল—সিলেট, সুনামগঞ্জ)।
- জোয়ারভাটা ও জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা: উপকূলীয় অঞ্চলে।
- ঐতিহাসিক প্রলয়ঙ্করী বন্যা: ১৯৮৮, ১৯৯৮ (সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী), ২০০৪ ও ২০২২ (সিলেটের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা)।
2. ভূমিকম্প (Earthquake):
- ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতির ফলে সৃষ্ট ভূকম্পন।
- উৎপত্তিস্থলকে ফোকাস (Focus বা Hypocenter) এবং তার ঠিক উপরের ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে এপিসেন্টার (Epicenter) বলে।
- পরিমাপক স্কেল: রিখটার স্কেল (Richter Scale) (১ একক বৃদ্ধি মানে শক্তির পরিমাণ প্রায় ৩২ গুণ বা বিস্তার ১০ গুণ বৃদ্ধি)।
- বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ জোনে বিভক্ত (সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন-১: সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল)।
3. বজ্রপাত (Lightning):
- ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। মে ও জুন মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। তালগাছ রোপণ বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ।
—
৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র (Disaster Management Cycle)
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ৪টি প্রধান ধাপ বা উপাদান রয়েছে যা একটি অবিচ্ছিন্ন চক্রাকারে পরিচালিত হয়:
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ৪টি পর্যায়
১. প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের পূর্বকালীন স্থায়ী ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কাঠামো নির্মাণ (যেমন: সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, বাঁধ দেওয়া)।
২. প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের ঠিক আগমুহূর্তের প্রস্তুতি (যেমন: আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, ড্রিল, আশ্রয়কেন্দ্রে লোক নেওয়া)।
৩. সাড়াদান (Response): দুর্যোগকালীন ও ঠিক পরবর্তী তাৎক্ষণিক কার্যক্রম (যেমন: উদ্ধার কাজ, জরুরি খাদ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা)।
৪. পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার (Recovery & Rehabilitation): দুর্যোগ পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ।
৬. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানসমূহ
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM): ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে)।
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP – Cyclone Preparedness Programme): ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগ দল (৭৬ হাজারের বেশি ভলান্টিয়ার)।
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (NDMC): এর প্রধান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
- জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস: ১০ মার্চ।
- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস: ১৩ অক্টোবর।
—
৭. Important Facts (দ্রুত রিভিশন চার্ট)
| বিষয় | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| সর্বকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় | ১২ নভেম্বর ১৯৭০ (ভোলা সাইক্লোন) |
| সিডর (Sidr) সংঘটনের তারিখ | ১৫ নভেম্বর ২০০৭ |
| আইলা (Aila) সংঘটনের তারিখ | ২৫ মে ২০০৯ |
| সমুদ্রবন্দরের সর্বোচ্চ সংকেত | ১১ নম্বর (যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন) |
| নদীবন্দরের সর্বোচ্চ সংকেত | ৪ নম্বর (মহাবিপদ) |
| বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা | ২০১৬ সালে |
| জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস | ১০ মার্চ |
৮. Summary (পরীক্ষার আগে দ্রুত দেখে নেওয়ার নোট)
- দুর্যোগ ঝুঁকি = (বিপদ × সুরক্ষাহীনতা) / সক্ষমতা।
- সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ২৭°C অতিক্রম করলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
- সমুদ্রবন্দরে সংকেত ১-১১ নম্বর এবং নদীবন্দরে সংকেত ১-৪ নম্বর।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রধান ধাপ: প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান এবং পুনর্বাসন।
- রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ও সিসমোগ্রাফে ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। সিলেট ও ময়মনসিংহ জোন-১ (সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ)।
- ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সিপিপি (CPP) প্রতিষ্ঠা করেন; প্রতি বছর ১০ মার্চ জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়।
—
৯. বিগত বিসিএস ও চাকরির প্রশ্নব্যাংক
১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন ধাপটি সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল?
- উত্তর: পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন (Rehabilitation) [৪৫তম বিসিএস, ৩৭তম বিসিএস]।
২. সমুদ্রবন্দরের জন্য কতটি সতর্কীকরণ সংকেত প্রচলিত রয়েছে?
- উত্তর: ১১টি সংকেত [৪৪তম বিসিএস, ৩২তম বিসিএস]।
৩. সিডর (Sidr) শব্দের অর্থ কী এবং এটি কোন ভাষার শব্দ?
- উত্তর: সিংহলী শব্দ; অর্থ ‘চোখ’ [৪৩তম বিসিএস, ২৯তম বিসিএস]।
৪. বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয়েছিল কত সালে?
- উত্তর: ১৯৯৮ সালে (প্রায় ৬৮ দিন স্থায়ী ছিল) [৪২তম বিসিএস, ২৬তম বিসিএস]।
৫. বজ্রপাতকে কত সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
- উত্তর: ২০১৬ সালে [৪১তম বিসিএস]।
৬. ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য কোন স্কেল ব্যবহার করা হয়?
- উত্তর: রিখটার স্কেল (Richter Scale) [৪০তম বিসিএস]।
৭. ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
- উত্তর: ১৯৭৩ সালে [৩৮তম বিসিএস]।