পৃথিবী ও মহাবিশ্ব: সৌরজগৎ, গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি | সাধারণ বিজ্ঞান বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতি
For competitive job exams (BCS, Bank, Primary), mastering পৃথিবী ও সৌরজগতের জ্যোতির্বিজ্ঞান is essential for scoring high. In this comprehensive study guide, all core rules, classification charts, and solved previous exam questions of পৃথিবী ও সৌরজগতের জ্যোতির্বিজ্ঞান are explained below.
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) মহাবিশ্বের উৎপত্তি, সৌরজগতের কাঠামো, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও মহাজাগতিক বস্তুসমূহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করে। বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে ‘ভৌত বিজ্ঞান’ অংশের সৌরজগৎ ও মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নম্বর তোলার মতো টপিক।
১. পৃথিবী ও সৌরজগতের জ্যোতির্বিজ্ঞান: মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও পরিমাপের একক
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory): মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব। বেলজিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জর্জেস লেমাইত্রে (Georges Lemaître) ১৯২৭ সালে এটি প্রথম প্রস্তাব করেন এবং পরবর্তীতে এডউইন হাবল গ্যালাক্সিসমূহের দূরত্ব ও প্রসারণ প্রমাণ করেন।
- মহাজাগতিক পরিমাপের এককসমূহ:
1. জ্যোতির্বিদ্যা একক (Astronomical Unit – AU): পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব (প্রায় ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিমি বা ১৫ কোটি কিমি)।
2. আলোকবর্ষ (Light Year): আলো শূন্য মাধ্যমে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে।
- ১ আলোকবর্ষ = $9.46 \times 10^{12}$ কিমি (বা $9.46 \times 10^{15}$ মিটার)।
3. পারসেক (Parsec): জ্যোতির্বিদ্যার বৃহত্তম দূরত্বের একক।
- ১ পারসেক = ৩.২৬ আলোকবর্ষ।
4. আলোর গতি: শূন্য মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার ($3 \times 10^8$ m/s)। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড (বা প্রায় ৫০০ সেকেন্ড)।
২. সৌরজগৎ (Solar System)
সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য, যাকে কেন্দ্র করে ৮টি প্রধান গ্রহ, ৫টি স্বীকৃত বামন গ্রহ এবং কোটি কোটি গ্রহাণু ও ধূমকেতু আবর্তিত হচ্ছে।
সূর্য (The Sun):
- সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় ৯৯.৮৬% সূর্যের দখলে।
- সূর্যের প্রধান উপাদান: হাইড্রোজেন (প্রায় ৭৩%) ও হিলিয়াম (প্রায় ২৫%)।
- শক্তির উৎস: নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) বিক্রিয়া, যেখানে উচ্চ চাপ ও তাপে হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠন করে বিপুল তাপ ও আলোকশক্তি নির্গত করে।
—
৩. সৌরজগতের আটটি গ্রহ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ইনফোগ্রাফিক মেমোরি কার্ড: সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে গ্রহসমূহ
ছন্দ: “My Very Educated Mother Just Served Us Noodles”
– M = Mercury (বুধ)
– V = Venus (শুক্র)
– E = Earth (পৃথিবী)
– M = Mars (মঙ্গল)
– J = Jupiter (বৃহস্পতি)
– S = Saturn (শনি)
– U = Uranus (ইউরেনাস)
– N = Neptune (নেপচুন)
(প্লুটোকে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন – IAU বামন গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করে)
| গ্রহের নাম | বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও উপাধি | উপগ্রহ সংখ্যা | আবর্তন ও পরিক্রমণ |
|---|---|---|---|
| বুধ (Mercury) | সূর্যের নিকটতম ও সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ। বায়ুমণ্ডল নেই। | ০ টি | পরিক্রমণকাল মাত্র ৮৮ দিন |
| শুক্র (Venus) | সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ (গ্রিনহাউস প্রভাব, ৯৬% CO2)। একে ‘শুকতারা’ বা ‘সন্ধ্যাতারা’ বলা হয়। পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তিত হয়। | ০ টি | নিজের অক্ষে ঘুরতে সময় নেয় ২৪৩ দিন |
| পৃথিবী (Earth) | একমাত্র প্রাণধারণযোগ্য গ্রহ। গড় ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। | ১ টি (চাঁদ) | ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড |
| মঙ্গল (Mars) | ‘লাল গ্রহ’ (Red Planet), পৃষ্ঠে আয়রন অক্সাইডের আধিক্য। অলিম্পাস মনস (সৌরজগতের সর্বোচ্চ পর্বত) এখানে অবস্থিত। | ২ টি (ফোবোস ও ডিমোস) | ৬৮৭ দিন |
| বৃহস্পতি (Jupiter) | সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ (‘গ্রহরাজ’)। এতে বিশাল ঝড় ‘Great Red Spot’ রয়েছে। | ৯৫ টি (গ্যানিমিড বৃহত্তম) | দ্রুততম নিজ অক্ষে আবর্তন (প্রায় ১০ ঘণ্টা) |
| শনি (Saturn) | দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। বরফ ও ধূলিকণার তৈরি আকর্ষণীয় উজ্জ্বল বলয় (Rings) রয়েছে। টাইটান এর প্রধান উপগ্রহ। | ১৪৬ টি (সর্বাধিক) | পরিক্রমণকাল ২৯.৫ বছর |
| ইউরেনাস (Uranus) | সবুজ গ্রহ (মিথেন গ্যাসের কারণে)। উইলিয়াম হার্শেল আবিষ্কার করেন। | ২৮ টি | নিজের অক্ষে ৯০ ডিগ্রি হেলে ঘোরে |
| নেপচুন (Neptune) | সূর্যের সবচেয়ে দূরবর্তী ও শীতলতম গ্যাসীয় গ্রহ। | ১৬ টি (ট্রাইটন প্রধান) | ১৬৫ বছরে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে |
৪. অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু
- বামন গ্রহ (Dwarf Planet): প্লুটো (Pluto), সেরেস (Ceres), এরিস (Eris), হাউমিয়া ও মাকেমাকে।
- গ্রহাণু বেল্ট (Asteroid Belt): মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অসংখ্য পাথুরে গ্রহাণুর বলয় অবস্থিত।
- ধূমকেতু (Comet): ধূলিকণা, বরফ ও জমে থাকা গ্যাসের তৈরি ঝাঁটার মতো উজ্জ্বল পুচ্ছবিশিষ্ট জ্যোতিষ্ক।
- হ্যালির ধূমকেতু: প্রতি ৭৬ বছর পর পর দেখা যায় (সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে দেখা গিয়েছিল, আবার ২০৬২ সালে দেখা যাবে)।
- কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল (Black Hole): অত্যন্ত শক্তিশালী মহাকর্ষীয় বলবিশিষ্ট অঞ্চল যা থেকে কোনো বস্তু এমনকি আলোও বের হতে পারে না। এর সীমান্তকে ‘ঘটনা দিগন্ত’ (Event Horizon) বলা হয়।
—
বিগত বিসিএস ও চাকরির প্রশ্নব্যাংক
১. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
- উত্তর: ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড (বা প্রায় ৫০০ সেকেন্ড) [৪৪তম বিসিএস, ৩১তম বিসিএস]।
২. সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ কোনটি?
- উত্তর: শুক্র (Venus) [৪১তম বিসিএস]।
৩. হ্যালির ধূমকেতু কত বছর পর পর দেখা যায়?
- উত্তর: ৭৬ বছর [৪০তম বিসিএস, ২৭তম বিসিএস]।
৪. মঙ্গল গ্রহের দুটি উপগ্রহের নাম কী?
- উত্তর: ফোবোস ও ডিমোস [৩৮তম বিসিএস]।
৫. সূর্যের শক্তির মূল উৎস কোন বিক্রিয়া?
- উত্তর: নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) [৩৬তম বিসিএস]।