৪. প্রাচীনযুগ — চর্যাপদের আবিষ্কার, পদকর্তা, সান্ধ্য ভাষা ও ড. সুনীতিকুমারের গবেষণা
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগ ও চর্যাপদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পূর্ণাঙ্গ স্টাডি গাইডে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগ ও চর্যাপদ-এর প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী, আলোচনা ও বিগত সালের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদিমতম ও একমাত্র প্রামাণ্য লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে এর সময়কাল ৯৫০-১২০০ খ্রি., আর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগ ও চর্যাপদ: 🔎 চর্যাপদের আবিষ্কার ও প্রকাশনা
- আবিষ্কার: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- মূল নাম: পুথির গায়ে লেখা নাম ছিল ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ (চর্যা = যা আচরণীয়, অচর্যা = যা আচরণীয় নয়)।
- প্রকাশ: ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
📊 পদ ও পদকর্তাদের পরিসংখ্যান
- মোট প্রাপ্ত পদসংখ্যা: সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫)। মূল পুথিতে মোট ৫০টি পদ ছিল।
- ২৪ নম্বর পদটি সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি (খণ্ডিত)।
- ২৫, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর পদ পাওয়া যায়নি।
- ২৩ নম্বর পদের অর্ধেক পাওয়া গেছে।
- মোট পদকর্তা: ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন)।
- সর্বাধিক পদ রচয়িতা: কাহ্নপা (সর্বোচ্চ ১৩টি পদ রচনা করেন)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা: ভুসুকুপা (৮টি পদ রচনা করেন)।
- ভুসুকুপা নিজেকে সরাসরি বাঙালি বলে ঘোষণা করেন: “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী”।
- আদি বা ১ম পদের রচয়িতা: লুইপা। প্রথম চরণ: “কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল”।
- একমাত্র নারী পদকর্তা হিসেবে স্বীকৃত: কুক্কুরীপা (৩টি পদ)।
- অন্যান্য পদকর্তা: সরহপা (৪টি পদ), শবরপা (২টি পদ)।
🗣️ চর্যাপদের ভাষা ও ছন্দ
- সান্ধ্য ভাষা (আলো-আঁধারি ভাষা): চর্যাপদের ভাষা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিছু বোঝা যায় কিছু সাধনার গূঢ় অর্থ বহন করে। তাই হরপ্রসাদ শাস্ত্রী একে ‘সান্ধ্য ভাষা’ বলেন।
- বাংলা ভাষার প্রমাণ: ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ (ODBL)-এ ধ্বনিতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ খাঁটি প্রাচীন বাংলা ভাষায় রচিত।
- ছন্দ: চর্যাপদ মূলত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত গান। তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ আবিষ্কার করেন ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী।
📝 মডেল টেস্ট (BCS Model Test)
১. চর্যাপদ কে, কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?
- (ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন থেকে
- (খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবার থেকে
- (গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ঢাকা থেকে
- (ঘ) বসন্তরঞ্জন রায়, বাঁকুড়া থেকে
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদ উদ্ধার করেন।
২. চর্যাপদের সর্বাধিক পদ কে রচনা করেছেন?
- (ক) লুইপা
- (খ) ভুসুকুপা
- (গ) কাহ্নপা
- (ঘ) কুক্কুরীপা
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: কাহ্নপা সর্বোচ্চ ১৩টি পদ রচনা করেন। ভুসুকুপা রচনা করেন ৮টি পদ।
৩. চর্যাপদ কত সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়?
- (ক) ১৯০৭ সালে
- (খ) ১৯০৯ সালে
- (গ) ১৯১৬ সালে
- (ঘ) ১৯২৬ সালে
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়।
৪. “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী” — কোন পদকর্তার উক্তি?
- (ক) লুইপা
- (খ) ভুসুকুপা
- (গ) সরহপা
- (ঘ) শবরপা
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: পদকর্তা ভুসুকুপা ৪৯নং পদে নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
৫. চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত এটি কে প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন?
- (ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- (খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- (গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
- (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ODBL গ্রন্থে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা সপ্রমাণ করেন।