১২. গান ও গীতিকার — পঞ্চগীতিকবি, দেশাত্মবোধক গান ও লালনগীতির সুরের মূর্ছনা
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বাংলা গান ও গীতিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পূর্ণাঙ্গ স্টাডি গাইডে বাংলা গান ও গীতিকার-এর প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী, আলোচনা ও বিগত সালের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীন চর্যাপদ ও মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য যেমন সুর করে গাওয়া হতো, তেমনি আধুনিক যুগে কালজয়ী গানের বাণী সাহিত্যমূল্যে ভাস্বর।
বাংলা গান ও গীতিকার: 🎼 পঞ্চগীতিকবি (The Five Great Composers)
বাংলা গানের স্বর্ণযুগের পাঁচজন দিকপাল গীতিকবি হলেন:
1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: প্রায় আড়াই হাজার গানের রচয়িতা (গীতবিতান)।
2. কাজী নজরুল ইসলাম: প্রায় তিন হাজার গান রচনা করেছেন। রাগপ্রধান, শ্যামাসঙ্গীত, ইসলামী গান ও গজল প্রবর্তন করেন।
3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি. এল. রায়): “ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা”, “বঙ্গ আমার জননী আমার”, *”যেদিন সুনীল জলধি হইতে উঠিল জননী ভারতবর্ষ”|।
4. অতুলপ্রসাদ সেন: “মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!”
5. রজনীকান্ত সেন (কান্তকবি): *”মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই” (স্বদেশী আন্দোলনের গান)।
🇧🇩 বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত
- জাতীয় সংগীত: “আমার সোনার বাংলা”
- রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রচিত)।
- সুর: শিলাইদহের বাউল গগন হরকরার “আমি কোথায় পাব তারে” গানের সুর থেকে গৃহীত।
- বর্তমান রূপ: মূল কবিতার মোট প্রথম ১০ চরণ জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয় (যন্ত্রসঙ্গীতে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়)।
- রণসংগীত: “চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল”
- রচয়িতা: কাজী নজরুল ইসলাম (১৯২৮ সালে রচিত, ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)।
- বর্তমান রূপ: প্রথম ২১ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় রণসংগীত হিসেবে বাজানো হয়।
🌸 একুশে ও মুক্তিযুদ্ধের অমর গান
- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”
- গীতিকার: আবদুল গাফফার চৌধুরী।
- বর্তমান জনপ্রিয় সুরকার: আলতাফ মাহমুদ (প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ)।
- “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” ➔ গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- “জয় বাংলা বাংলার জয়” ➔ গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।
- “সালাম সালাম হাজার সালাম” ➔ গায়ক: আবদুল জব্বার।
🪕 বাউল সম্রাট লালন শাহ ও মরমী ধারা
- লালন শাহকে ‘বাউল গানের সম্রাট’ বলা হয়।
- বিখ্যাত গান: “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়”, “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে”, *”বাড়ির কাছে আরশিনগর”|।
- অন্যান্য সাধক: হাছন রাজা (“লোকে বলে বলেরে ঘর বাড়ি ভালা না আমার”), শাহ আবদুল করিম (“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”).
📝 মডেল টেস্ট (BCS Model Test)
১. বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা ও সুরকার কে?
- (ক) কাজী নজরুল ইসলাম
- (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- (গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- (ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেন এবং গগন হরকরার বাউল সুরের আদলে সুরারোপ করেন।
২. “মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!” — এই গানের রচয়িতা কে?
- (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- (খ) অতুলপ্রসাদ সেন
- (গ) রজনীকান্ত সেন
- (ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা ও সুরকার অতুলপ্রসাদ সেন।
৩. “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানটির বর্তমান সুরকার কে?
- (ক) আবদুল লতিফ
- (খ) আলতাফ মাহমুদ
- (গ) সমর দাস
- (ঘ) শেখ লুৎফর রহমান
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ, তবে পরবর্তীতে শহীদ আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও গাওয়া হয়।
৪. বাংলাদেশের রণসংগীত ‘চল্ চল্ চল্’ নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
- (ক) অগ্নিবীণা
- (খ) সর্বহারা
- (গ) সন্ধ্যা
- (ঘ) প্রলয়শিখা
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: ১৯২৮ সালে প্রকাশিত ‘সন্ধ্যা’ কাব্যের ‘নূতনের গান’ কবিতাটিই পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
৫. “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” — কার গান?
- (ক) হাছন রাজা
- (খ) লালন শাহ
- (গ) রামপ্রসাদ সেন
- (ঘ) শাহ আবদুল করিম
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: বাউল সম্রাট লালন শাহ রচিত দেহতত্ত্ব ও মরমী দর্শনের অবিসংবাদিত গান।