১২. বাক্য ও বাক্য প্রকরণ — সরল, জটিল, যৌগিক এবং সার্থক বাক্যের ৩টি গুণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বাক্য প্রকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পূর্ণাঙ্গ স্টাডি গাইডে বাক্য প্রকরণ-এর প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী, আলোচনা ও বিগত সালের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এক বা একাধিক সার্থক পদের সুশৃঙ্খল সমষ্টি যা বক্তার পূর্ণ মনের ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাক্য বলে।
বাক্য প্রকরণ: 🎯 সার্থক বাক্যের তিনটি অপরিহার্য গুণ
একটি আদর্শ বাক্যের ৩টি বৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক:
1. আকাঙ্ক্ষা (Expectation): বাক্যের এক পদ শোনার পর অন্য পদ শোনার যে স্বাভাবিক ইচ্ছা।
- যেমন: “আমরা সকলে মিলে…” বললে আকাঙ্ক্ষা থেকে যায়। “আমরা সকলে মিলে দেশকে ভালোবাসব” বললে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।
2. আসত্তি (Proximity/Order): বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য পদগুলোকে সঠিক ক্রম অনুযায়ী সাজানো।
- যেমন: “মাছ ধরছে বাবা নদীতে গিয়ে” ➔ সঠিক আসত্তি হবে: “বাবা নদীতে গিয়ে মাছ ধরছেন।”
3. যোগ্যতা (Fitness): বাক্যের অন্তর্গত পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত পারস্পরিক মেলবন্ধন।
- যেমন: “আমরা বরশি দিয়ে নারিকেল পাড়ি” ➔ এটি যোগ্যতা হারিয়েছে (কারণ বরশি দিয়ে মাছ ধরা হয়)।
⚠️ যোগ্যতা হারানোর প্রধান কারণসমূহ
- গুরুচণ্ডালী দোষ: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে যোগ্যতা নষ্ট হয়।
- ❌ শবপোড়া ➔ ✔️ শবদাহ (তৎসম) অথবা মড়াপোড়া (দেশি)।
- ❌ গরুর শকট ➔ ✔️ গরুর গাড়ি অথবা অশ্ব শকট।
- উপমার ভুল প্রয়োগ: “আমার হৃদয়-ক্ষেত পাপে ছারখার হলো।”
- বাহুল্য দোষ: একই অর্থের একাধিক পদ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করা।
🏗️ গঠন অনুযায়ী বাক্যের ৩ প্রকারভেদ
- ১. সরল বাক্য: একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) ও একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে।
- যেমন: মেঘ ডাকলে বৃষ্টি হয়।
- ২. জটিল / মিশ্র বাক্য: একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য নির্ভরশীল থাকে (যাঁরা…তাঁরা, যদি…তবে, যে…সে)।
- যেমন: যদি মেঘ ডাকে, তবে বৃষ্টি হবে।
- ৩. যৌগিক বাক্য: একাধিক সরল বা জটিল বাক্য অব্যয় পদ (এবং, ও, কিন্তু, অথচ, অথবা) দ্বারা যুক্ত থাকে।
- যেমন: মেঘ ডাকল এবং বৃষ্টি হলো।
📝 মডেল টেস্ট (BCS Model Test)
১. একটি সার্থক বাক্যের কয়টি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক?
- (ক) ২টি
- (খ) ৩টি
- (গ) ৪টি
- (ঘ) ৫টি
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ রয়েছে: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
২. ‘শবপোড়া’ শব্দটি কোন দোষে দুষ্ট?
- (ক) আকাঙ্ক্ষার অভাব
- (খ) আসত্তির অভাব
- (গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
- (ঘ) বাহুল্য দোষ
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: তৎসম ‘শব’ এর সাথে দেশি ‘পোড়া’ যুক্ত করায় এটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট (সঠিক: শবদাহ অথবা মড়াপোড়া)।
৩. “যে পরিশ্রম করে, সে-ই ফল পায়” — এটি কোন ধরনের বাক্য?
- (ক) সরল বাক্য
- (খ) জটিল বাক্য
- (গ) যৌগিক বাক্য
- (ঘ) খণ্ড বাক্য
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: ‘যে…সে’ সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা শর্তযুক্ত হয়ে দুটি খণ্ডবাক্য পরস্পর নির্ভরশীল থাকায় এটি জটিল বা মিশ্র বাক্য।
৪. বাক্যে পদসমূহের সঠিক ও সুশৃঙ্খল স্থানবিন্যাসকে কী বলে?
- (ক) যোগ্যতা
- (খ) আসত্তি
- (গ) আকাঙ্ক্ষা
- (ঘ) প্রবৃত্তি
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: পদের যথার্থ বিন্যাস বা সাজানোকে বলা হয় ‘আসত্তি’।
৫. “তিনি বিদ্বান হলেও সৎ নন” — এর যৌগিক রূপ কোনটি?
- (ক) যদিও তিনি বিদ্বান তবু সৎ নন
- (খ) তিনি বিদ্বান কিন্তু সৎ নন
- (গ) তিনি বিদ্বান অথচ অসৎ নন
- (ঘ) তিনি বিদ্বান ও অসৎ
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: ‘কিন্তু’ অব্যয় দ্বারা দুটি পূর্ণ ভাবকে যুক্ত করায় ‘তিনি বিদ্বান কিন্তু সৎ নন’ একটি সঠিক যৌগিক বাক্য।