সরকারি চাকরি মানেই নিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং মাস শেষে মোটা অংকের বেতন— সমাজে এমন একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে বা মফস্বল এলাকায় এখনো মনে করা হয়, একবার সরকারি চাকরি জুটলে আর কোনো চিন্তা নেই, টাকার পাহাড় জমে যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি কি আসলেই তাই? আজ ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িয়ে আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বেতনের একদম ভেতরের খবর জানবো। যারা শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান বা সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে— প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কত এবং মাস শেষে ঠিক কত টাকা পকেটে ঢোকে?
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ১৩তম গ্রেডে সদ্য যোগদান করা একজন সহকারী শিক্ষকের বেতনের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করবো। এখানে কোনো অনুমান নয়, বরং সরকারি পে-স্কেল এবং বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পয়সার হিসাব তুলে ধরা হবে। এই লেখাটি পড়লে আপনার সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও গ্রেড পরিচিতি
বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয় ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫’ অনুযায়ী। ২০২৬ সালে এসেও মূল কাঠামোটি একই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যদিও সময়ের সাথে সাথে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন। আগে এই গ্রেড নিয়ে অনেক আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া থাকলেও, বর্তমানে এটি ১৩তম গ্রেডেই স্থির করা হয়েছে।
একজন নতুন সহকারী শিক্ষক যখন চাকরিতে যোগদান করেন, তখন তার মূল বেতন বা Basic Pay শুরু হয় ১১,০০০ টাকা থেকে। এই ১১,০০০ টাকাই হলো তার বেতনের মূল ভিত্তি। এর ওপর ভিত্তি করেই বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কত ২০২৬: এক নজরে হিসাব
কথায় আছে, অংকের হিসাব মিললে তবেই শান্তি। চলুন, একটি ছকের মাধ্যমে দেখে নেই একজন নতুন শিক্ষকের মাসিক আয়ের চিত্র।
| খাতের নাম | টাকার পরিমাণ (BDT) | মন্তব্য |
| মূল বেতন (Basic Pay) | ১১,০০০ টাকা | ১৩তম গ্রেডের শুরুর ধাপ |
| বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent) | ৪,৯৫০ টাকা | মূল বেতনের ৪৫% (মফস্বল) |
| চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance) | ১,৫০০ টাকা | ফিক্সড |
| টিফিন ভাতা (Tiffin Allowance) | ২০০ টাকা | ফিক্সড |
| মোট প্রাপ্তি (Gross Salary) | ১৭,৬৫০ টাকা | কর্তনের আগে মোট আয় |
| কল্যাণ তহবিল ও বিমা কর্তন | ১২০ টাকা | বাধ্যতামূলক |
| নিট বেতন (Net Salary) | ১৭,৫৩০ টাকা | হাতে প্রাপ্ত বেতন |
দ্রষ্টব্য: প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ-এ টাকা রাখা ঐচ্ছিক, তাই উপরের ছকে তা বাদ দিয়ে নিট বেতন দেখানো হয়েছে। তবে জিপিএফ-এ টাকা রাখলে হাতে প্রাপ্ত টাকা কিছুটা কমবে, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বেতনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ভাতার নিয়মাবলি
অনেকেই উপরের ছক দেখে হয়তো ভাবছেন, মাত্র ১৭,০০০ টাকা? আবার অনেকে ভাবতে পারেন, শুরুতে তো ভালোই! আসলে এই টাকার অংকটি কীভাবে এলো, তা বিস্তারিত না জানলে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকে। চলুন প্রতিটি খাত আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করি।
১. মূল বেতন (Basic Salary)
একজন সহকারী শিক্ষকের ১৩তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ধরা হয় ১১,০০০ টাকা। এটিই আপনার ‘বেসিক’। এই বেসিকের ওপর ভিত্তি করেই প্রতি বছর ৫% হারে বেতন বাড়ে বা ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। অর্থাৎ, এক বছর চাকরি করার পর আপনার মূল বেতন ১১,০০০ টাকার সাথে আরও ৫৫০ টাকা যুক্ত হয়ে ১১,৫৫০ টাকা হবে। এভাবে প্রতি বছর ধাপে ধাপে মূল বেতন বাড়তে থাকে।
২. বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance)
সরকারি চাকরিতে এলাকাভেদে বাড়ি ভাড়ার হারে ভিন্নতা রয়েছে। আপনি যদি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চাকরি করেন, তবে আপনি মূল বেতনের ৬০% থেকে ৬৫% বাড়ি ভাড়া পাবেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার পৌর এলাকায় এটি ৫০%।
তবে, দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় যেহেতু উপজেলা বা গ্রাম পর্যায়ে অবস্থিত, তাই সিংহভাগ শিক্ষক মফস্বল এলাকার হারের আওতায় পড়েন। মফস্বলে বাড়ি ভাড়া হলো মূল বেতনের ৪৫%।
- হিসাব: ১১,০০০ টাকার ৪৫% = ৪,৯৫০ টাকা।সুতরাং, গ্রামের একজন শিক্ষক বাড়ি ভাড়া বাবদ এই টাকাটি পান।
৩. চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
শিক্ষকসহ সকল সরকারি কর্মচারীর সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার মাসিক একটি চিকিৎসা ভাতা প্রদান করে। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভাতার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা। এটি চাকরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফিক্সড থাকে, তবে সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি গেজেট আকারে পরিবর্তন করতে পারে।
৪. টিফিন ভাতা (Tiffin Allowance)
দুপুরের টিফিন বা নাস্তার জন্য শিক্ষকদের মাসে ২০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যদিও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ২০০ টাকায় সারা মাসের নাস্তা করা অসম্ভব, তবুও এটি নিয়মের অংশ হিসেবে বেতনের সাথে যুক্ত হয়।
৫. শিক্ষা ভাতা (Education Allowance)
আপনার যদি সন্তান থাকে এবং তারা পড়াশোনা করে, তবে আপনি শিক্ষা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। প্রতি সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ভাতা পাওয়া যায়। তবে অবিবাহিত বা নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই ভাতাটি শুরুতে প্রযোজ্য হয় না বিধায় মূল হিসাবে এটি দেখানো হয়নি।
বেতন থেকে কর্তন বা Deductions
মাস শেষে যে ১৭,৬৫০ টাকা মোট বেতন বা Gross Salary দাঁড়ালো, তার পুরোটাই কিন্তু আপনি ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন না। সরকারি চাকরির অন্যতম সুবিধা হলো ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, আর এই নিরাপত্তার জন্য বর্তমান বেতন থেকে কিছু টাকা কেটে রাখা হয়।
বাধ্যতামূলক কর্তন:
- কল্যাণ তহবিল: সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের জন্য মাসে একটি নির্দিষ্ট অংক কেটে রাখা হয়।
- যৌথ বিমা: চাকরিরত অবস্থায় কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যু হলে পরিবার যেন সহায়তা পায়, সেজন্য যৌথ বিমার প্রিমিয়াম বাবদ টাকা কাটা হয়।এই দুটি মিলিয়ে সাধারণত ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মতো কাটা হয়।
ঐচ্ছিক কর্তন (GPF):
General Provident Fund বা জিপিএফ হলো সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চয়ের সবচেয়ে বড় খাত। আপনি চাইলে আপনার মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫% থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত এই ফান্ডে জমা রাখতে পারেন। সরকার এর ওপর একটি ভালো মানের সুদ প্রদান করে (১৩% বা তার আশেপাশে)।
- একজন নতুন শিক্ষক যদি সর্বনিম্ন ৫% ও রাখেন, তবে ১১,০০০ টাকার ৫% = ৫৫০ টাকা কাটা যাবে।
- তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকে ১,০০০ বা ২,০০০ টাকা করে কর্তন শুরু করেন।
যদি আপনি জিপিএফ-এ ন্যূনতম ১,০০০ টাকা রাখেন এবং অন্যান্য কর্তন ১২০ টাকা হয়, তবে মোট কর্তন হবে ১,১২০ টাকা।
মাস শেষে হাতে কত টাকা পাবেন?
এখন আসা যাক আসল প্রশ্নে— প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কত যা দিয়ে তিনি সংসার চালাবেন?
সব যোগ-বিয়োগ শেষে:
- মোট প্রাপ্তি: ১৭,৬৫০ টাকা
- মোট কর্তন (জিপিএফ ১০০০ টাকা ধরে): ১,১২০ টাকা
- হাতে প্রাপ্ত বেতন (Net Salary): ১৬,৫৩০ টাকা।
অর্থাৎ, একজন নতুন যোগদান করা সহকারী শিক্ষক মাস শেষে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৬,৫৩০ টাকা পাবেন।
উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা
মাসিক বেতন ছাড়াও সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা বছরে বেশ কিছু বোনাস বা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন, যা তাদের বার্ষিক আয়কে বাড়িয়ে দেয়।
১. ঈদ বা পূজা বোনাস (Festival Allowance):
ধর্ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষক বছরে দুটি প্রধান উৎসবে বোনাস পান। এই বোনাসের পরিমাণ হলো মূল বেতনের ১০০%। অর্থাৎ, একজন নতুন শিক্ষক ঈদের সময় ১১,০০০ টাকা করে দুই ঈদে মোট ২২,০০০ টাকা বোনাস পাবেন।
২. বৈশাখী ভাতা (Boishakhi Allowance):
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষকরা মূল বেতনের ২০% হারে বৈশাখী ভাতা পান।
- হিসাব: ১১,০০০ টাকার ২০% = ২,২০০ টাকা।
৩. শ্রান্তি বিনোদন ভাতা (Rest and Recreation Allowance):
প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর শিক্ষকরা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পান। এটি হলো এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ। অর্থাৎ প্রতি ৩ বছর পর পর আপনি একবার ১৫ দিনের ছুটিসহ ১১,০০০ টাকা (বর্তমান বেসিক অনুযায়ী) বাড়তি পাবেন।
প্রাথমিক শিক্ষকতা: শুধু বেতন নয়, আরও অনেক কিছু
অনেকে ১৬,৫৩০ টাকার অংক দেখে হতাশ হতে পারেন। বর্তমান বাজারে এই টাকায় সংসার চালানো সত্যিই কঠিন। কিন্তু সরকারি চাকরির বিষয়টি শুধু মাসিক বেতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা।
নিরাপত্তা ও সম্মান:
প্রাথমিক শিক্ষকরা সমাজে যে সম্মান পান, তা টাকার অংকে পরিমাপ করা যায় না। তাছাড়া এটি একটি স্থায়ী চাকরি, যেখানে ছাঁটাইয়ের ভয় নেই বললেই চলে।
পেনশন ও গ্রাচুইটি:
চাকরি জীবন শেষে একজন শিক্ষক যে এককালীন টাকা (গ্রাচুইটি) এবং মাসিক পেনশন পান, তা তার বৃদ্ধ বয়সের বড় অবলম্বন। প্রাইভেট চাকরিতে বেতন বেশি হলেও পেনশনের সুবিধা সচরাচর থাকে না। অবসরের পর প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা (চাকরি কাল ও শেষ বেসিকের ওপর ভিত্তি করে) এককালীন পাওয়া এবং আমৃত্যু মাসিক পেনশন পাওয়া— এই চাকরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
পদোন্নতির সুযোগ:
একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে আপনি কি সারাজীবন একই পদে থাকবেন? না। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এবং বিভিন্ন বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হতে পারেন। প্রধান শিক্ষক হলে আপনি ১০ম গ্রেডে বেতন পাবেন, যা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদার সমান। তখন বেতন ও মর্যাদা— দুটোই অনেক বেড়ে যায়।
মফস্বল বনাম সিটি কর্পোরেশন: বেতনের পার্থক্য
আগেই বলা হয়েছে, যারা ঢাকা বা বড় শহরে চাকরি করেন, তাদের বেতন গ্রামের শিক্ষকদের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়।
- মফস্বলে বাড়ি ভাড়া ৪,৯৫০ টাকা।
- ঢাকায় বাড়ি ভাড়া (৬০% ধরলে) ৬,৬০০ টাকা।পার্থক্য প্রায় ১,৬৫০ টাকার। তবে শহরের জীবনযাত্রার খরচ গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি। তাই দিনশেষে গ্রামের শিক্ষকরাই আর্থিক দিক থেকে কিছুটা স্বস্তিতে থাকেন বলে মনে করা হয়। কারণ, গ্রামে বাসা ভাড়া বা যাতায়াত খরচ শহরের তুলনায় অনেক কম।
১০ বছর পর বেতন কত হবে?
সরকারি চাকরির মজা হলো ইনক্রিমেন্ট। প্রতি বছর ১লা জুলাই আপনার বেতন ৫% হারে বাড়বে। চক্রবৃদ্ধি হারে এই বাড়ার কারণে ১০ বছর পর আপনার মূল বেতন বা Basic Pay প্রায় ১৯,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। তখন আপনার মোট বেতন বা Gross Salary প্রায় ৩০,০০০ টাকার কাছাকাছি হবে। অর্থাৎ, ধৈর্য ধরলে বেতন অবশ্যই বাড়বে।
প্রশ্ন-উত্তর সেকশন (FAQs)
সহকারী শিক্ষকদের বেতন কি প্রতি বছর বাড়ে?
হ্যাঁ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ১লা জুলাই মূল বেতনের ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। এতে মোট বেতন প্রতি বছরই কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
প্রাথমিক শিক্ষকদের কি বদলি হওয়ার সুযোগ আছে?
হ্যাঁ, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে অনলাইনে বদলির আবেদন করতে হয় এবং শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে নিজ উপজেলা বা জেলায় বদলি হওয়া যায়।
১৩তম গ্রেড থেকে কি ১০ম গ্রেডে যাওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ, সহকারী শিক্ষক (১৩তম গ্রেড) থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক (১০ম গ্রেড) হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি সাধারণত জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
অবসরের পর কত টাকা পাওয়া যায়?
এটি নির্ভর করে আপনার শেষ মূল বেতন এবং চাকরি কত বছর করেছেন তার ওপর। তবে একজন শিক্ষক পূর্ণ মেয়াদ চাকরি শেষ করলে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি এককালীন এবং মাসিক ১৫-২০ হাজার টাকা পেনশন পেতে পারেন (ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়বে)।
শেষ কথা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কেবল একটি চাকরি নয়, এটি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করার একটি শপথ। আজ আমরা জানলাম প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কত এবং এর খুঁটিনাটি দিকগুলো। একজন নতুন শিক্ষকের জন্য ১৬,৫৩০ টাকা দিয়ে মাস পার করা বর্তমান বাজারে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কিন্তু এই পেশার সম্মান, ছুটির সুবিধা, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং পেনশনের কথা চিন্তা করলে এটি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন পেশা।
যারা এই মহান পেশায় আসতে চান, তাদের উচিত বেতনের অংকের চেয়ে দায়িত্বের গুরুত্বকে বড় করে দেখা। কারণ, আপনার হাতেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ। ধৈর্য ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করলে এই পেশা আপনাকে ইহকাল ও পরকাল— উভয় ক্ষেত্রেই সম্মানিত করবে।