Close Menu
  • Home
  • Tools
    • Calculator
  • News
    • Islamic info Bangla
    • Lifestyle
  • Study
    • Class 9-10
      • Science
      • রসায়ন (SSC)
    • Grammar
    • Paragraph For SSC, HSC 2025
    • Compositions
    • English Speaking
    • জাপানিজ ভাষা (Japanease Language)
  • Best Job
  • Price
    • Product review
  • Privacy Policy
  • Exact Age Calculator Offline Privacy Policy
  • Privacy Policy for Leaf Doctor AI
Ajker Bongo
Google News
  • Home
  • Tools
    • Calculator
  • News
    • Islamic info Bangla
    • Lifestyle
  • Study
    • Class 9-10
      • Science
      • রসায়ন (SSC)
    • Grammar
    • Paragraph For SSC, HSC 2025
    • Compositions
    • English Speaking
    • জাপানিজ ভাষা (Japanease Language)
  • Best Job
  • Price
    • Product review
  • Privacy Policy
  • Exact Age Calculator Offline Privacy Policy
  • Privacy Policy for Leaf Doctor AI
Ajker Bongo
Home » Study
Study

শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

Ajker bongoBy Ajker bongoNo Comments9 Mins Read

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাঙালি জাতির ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। প্রতি বছর এই দিনটি এলেই আমরা শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করি। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই দিনটি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। অনেকেই পরীক্ষার খাতায় বা সাধারণ জ্ঞানের জন্য শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য জানতে চান। এই আর্টিকেলে আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্য হলো আপনাকে সঠিক ইতিহাস জানানো এবং সহজ ভাষায় বিষয়টি বুঝিয়ে বলা।

ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে রাজপথে নেমেছিল। তাদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। আজ সারা বিশ্ব এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে। কিন্তু এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক সংগ্রামের ইতিহাস। আপনি যদি শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই এই পটভূমি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। চলুন, ধাপে ধাপে আমরা এই গৌরবময় ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং জেনে নিই সেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য যা আপনার জানা প্রয়োজন।

Table of Contents

Toggle
  • ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও ইতিহাস
  • ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি: রক্তঝরা দিন
  • শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য (বিস্তারিত তালিকা)
  • শহীদ মিনারের গুরুত্ব ও প্রভাত ফেরি
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি
  • বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব
  • নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও কর্তব্য
  • একুশে ফেব্রুয়ারি ও বিশ্বায়ন
  • ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় দিক
  • প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
  • শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মধ্যে পার্থক্য কী?
  • ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
  • ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির রচয়িতা কে?
  • শহীদ মিনার কে ডিজাইন করেছিলেন?
  • আমি কি পরীক্ষার খাতায় এই আর্টিকেল থেকে শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখতে পারব?
  • উপসংহার

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও ইতিহাস

১৯৪৭ সালে যখন ভারত ভাগ হলো এবং পাকিস্তান নামের নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হলো, তখন থেকেই সমস্যার শুরু। পাকিস্তানের দুটি অংশ ছিল—পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান। দুই অংশের মধ্যে সংস্কৃতি ও ভাষার বিশাল ব্যবধান ছিল। তবুও পাকিস্তানের শাসকরা জোর করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চাইল। অথচ পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বাঙালিরা মেনে নিতে পারেনি। তারা প্রতিবাদ শুরু করে। এই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতাতেই তৈরি হয় ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি, যা ছাড়া শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ছাত্রসমাজ সাথে সাথে “না, না” বলে প্রতিবাদ জানায়। ধাপে ধাপে আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। ১৯৫২ সালের শুরুতে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। তৎকালীন সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু বাংলার ছাত্রসমাজ সেই নিষেধাজ্ঞা মানেনি। তারা মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষায় জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিল। এই ইতিহাস জানা থাকলে শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য সাজিয়ে লেখা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি: রক্তঝরা দিন

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্ররা জড়ো হতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করা। দুপুরের দিকে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এই গুলিতে শহীদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে। তাদের এই আত্মত্যাগের খবর দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো বাংলা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই ঘটনাটিই মূলত আমাদের শহীদ দিবসের মূল ভিত্তি। তাই যখনই আপনি শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখবেন, তখন এই শহীদদের নাম এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়।

ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এই বিজয় ছিল বাঙালির ঐক্য ও সাহসের প্রতীক। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই যেখানে মানুষ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। এই কারণেই ২১শে ফেব্রুয়ারি বা শহীদ দিবস আমাদের কাছে এত আবেগের, এত গর্বের।

শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য (বিস্তারিত তালিকা)

অনেকেই ইন্টারনেটে বা বইতে শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য খুঁজে থাকেন। বিশেষ করে ছোটদের জন্য বা রচনা লেখার জন্য এটি প্রয়োজন হয়। নিচে আমরা খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় ১০টি বাক্য তুলে ধরছি যা আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন:

  • ১. ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে এই দিনটিকে শহীদ দিবস বলা হয়।
  • ২. এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে শোক ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
  • ৩. রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং শফিউরসহ নাম না জানা অনেকেই এই দিনে ভাষার জন্য শহীদ হয়েছিলেন।
  • ৪. ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে বাঙালিরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে।
  • ৫. ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ সেই মিছিলে গুলি চালায়।
  • ৬. ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।
  • ৭. প্রতি বছর এই দিনে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।
  • ৮. বর্তমানে ২১শে ফেব্রুয়ারি শুধু শহীদ দিবস নয়, এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত।
  • ৯. ১৯৯৯ সালে UNESCO এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
  • ১০. এই দিনটি আমাদের মায়ের ভাষাকে ভালোবাসতে এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে শেখায়।

এই তালিকাটি ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য মুখস্থ করতে বা লিখতে পারবেন। প্রতিটি বাক্যেই তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখা হয়েছে।

শহীদ মিনারের গুরুত্ব ও প্রভাত ফেরি

শহীদ দিবস পালনের অন্যতম প্রধান অংশ হলো শহীদ মিনার। প্রথম শহীদ মিনার তৈরি হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি, যা পুলিশ পরে ভেঙে দেয়। কিন্তু বাঙালির মন থেকে তারা শহীদদের স্মৃতি মুছে ফেলতে পারেনি। বর্তমানে আমরা যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দেখি, তা আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক। আপনি যদি শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য নিয়ে কোনো প্রজেক্ট করেন, তবে শহীদ মিনারের কথা অবশ্যই উল্লেখ করবেন। এটি আমাদের ঐক্যের প্রতীক।

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন খুব ভোরে প্রভাত ফেরি অনুষ্ঠিত হয়। “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”—এই গানটি গাইতে গাইতে মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়। হাতে থাকে ফুল। ছোট-বড় সবাই মিলে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এই দৃশ্যটি বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাত ফেরি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের চেতনার বহিঃপ্রকাশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই চেতনা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি

একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয়, এটি এখন সারা বিশ্বের সম্পদ। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বিশাল গর্বের বিষয়। যখন আপনি শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখবেন, তখন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথাটি যুক্ত করলে লেখার মান অনেক বেড়ে যাবে।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলা ভাষা বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখন জানে যে, বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। সিয়েরা লিয়ন নামের একটি দেশ তো বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে সম্মান জানিয়েছে। এসবই আমাদের ভাষা আন্দোলনের ফসল। তাই শহীদ দিবসের গুরুত্ব এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব

ভাষা আন্দোলন আমাদের সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ঢাকায় অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। বইমেলা আমাদের মনন ও চিন্তাশক্তি বিকাশে সহায়তা করে। আপনি যদি শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য নিয়ে আরও পড়াশোনা করতে চান, তবে বইমেলা থেকে ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা বিভিন্ন বই সংগ্রহ করতে পারেন।

এছাড়া নাটক, সিনেমা, গান ও সাহিত্যে ভাষা আন্দোলনের উপস্থিতি প্রবল। জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমার কথা আমরা সবাই জানি। সেখানে ভাষা আন্দোলনের চিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের সাহিত্যেও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাব অপরিসীম। কবিরা কবিতা লিখেছেন, গায়করা গান গেয়েছেন। এই সবকিছু মিলিয়েই আমাদের বাঙালি সত্তা গড়ে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে যে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে নেই।

নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও কর্তব্য

আজকের নতুন প্রজন্ম হয়তো ১৯৫২ সালের সেই ভয়াবহ দিনটি দেখেনি। কিন্তু তাদের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য জানার পাশাপাশি তাদের জানা উচিত কেন এই আত্মত্যাগ করা হয়েছিল। বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকাল আমরা অনেকেই বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলি, যাকে বাংলিশ বলা হয়। এটি পরিহার করা উচিত।

শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই জানানো হবে যখন আমরা বাংলা ভাষাকে শুদ্ধভাবে বলতে ও লিখতে পারব। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় ও অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে। তরুণদের উচিত ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করা এবং বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য তুলে ধরা। মনে রাখতে হবে, যে জাতি তার নিজের ভাষাকে সম্মান করতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না।

একুশে ফেব্রুয়ারি ও বিশ্বায়ন

বর্তমান যুগ বিশ্বায়নের যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। এই সময়েও বাংলা ভাষা তার স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে। ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। গুগল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখে কেউ যদি সার্চ দেয়, তবে সে হাজার হাজার তথ্য পাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির সাথে বাংলা ভাষার কোনো বিরোধ নেই।

বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারি। ইউনিকোডের মাধ্যমে এখন যেকোনো ডিভাইসে বাংলা লেখা সম্ভব হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন প্রযুক্তির ভিড়ে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে না যায়। বিশ্বায়নের স্রোতে গা ভাসিয়ে না দিয়ে আমাদের শেকড়কে আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। আর আমাদের শেকড় হলো একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলন।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় দিক

স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। প্রথমত, দেশপ্রেম। দেশের জন্য, নিজের ভাষার জন্য কীভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তা ভাষা শহীদরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই শক্তিশালী পাকিস্তানি শাসকদের হঠাতে পেরেছিল। তৃতীয়ত, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। ভুল বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকা উচিত।

শিক্ষকরা ক্লাসে শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য শেখানোর পাশাপাশি এই নৈতিক শিক্ষাগুলোও দিতে পারেন। এতে ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র গঠনে সহায়তা হবে। তারা জানবে যে তাদের পূর্বপুরুষরা কত বড় বীর ছিলেন। এই গর্ব তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। ভবিষ্যৎ জীবনে তারা যখন বড় কোনো দায়িত্বে যাবে, তখন এই শিক্ষা তাদের সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে। তাই শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারিকে জানতে হবে।

প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)

শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মধ্যে পার্থক্য কী?

মূল ঘটনা একই। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা একে শহীদ দিবস বলি। আর ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্বব্যাপী পালনের স্বীকৃতি দিলে তা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়।

ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?

রফিকউদ্দিন আহমদ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রথম শহীদ। মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির রচয়িতা কে?

এই কালজয়ী গানটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। শুরুতে এর সুর দিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ, পরে বর্তমান সুরটি দেন আলতাফ মাহমুদ।

শহীদ মিনার কে ডিজাইন করেছিলেন?

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান। তাঁর নকশা অনুযায়ীই আমাদের গর্বের এই মিনারটি নির্মিত হয়েছে।

আমি কি পরীক্ষার খাতায় এই আর্টিকেল থেকে শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য লিখতে পারব?

অবশ্যই। এই আর্টিকেলে দেওয়া ১০টি বাক্য অত্যন্ত নির্ভুল এবং সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে, যা পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা বীরের জাতি। ভাষার জন্য আমাদের এই আত্মত্যাগ পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছে। শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য শুধু কয়েকটি লাইন নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের নির্যাস। সালাম, বরকত, রফিকদের রক্তে কেনা এই বাংলা বর্ণমালা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই সম্পদের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি—মায়ের ভাষাকে ভালোবাসব, শুদ্ধ বাংলায় কথা বলব এবং শহীদদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেব। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, ততদিন একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে থাকবে। বিনম্র শ্রদ্ধা সকল ভাষা শহীদের প্রতি।

Previous Articleজুলাই শহীদ দিবস কবে? ছাত্র-জনতার ত্যাগের ইতিহাস
Next Article শহীদ দিবস উপলক্ষে বক্তব্য: সেরা কিছু নমুনা ও সহজ বক্তৃতার কৌশল
Ajker bongo
  • Website

Related Posts

শহীদ দিবস উপলক্ষে বক্তব্য: সেরা কিছু নমুনা ও সহজ বক্তৃতার কৌশল

February 4, 2026

বাংলা পাঠদানে প্রযুক্তি ব্যবহার: আধুনিক শিক্ষার নতুন দিগন্ত

January 26, 2026

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট

November 10, 2025

কোণ কাকে বলে

November 10, 2025
Leave A Reply Cancel Reply

Recent Posts
  • শহীদ দিবস উপলক্ষে বক্তব্য: সেরা কিছু নমুনা ও সহজ বক্তৃতার কৌশল
  • শহীদ দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য
  • জুলাই শহীদ দিবস কবে? ছাত্র-জনতার ত্যাগের ইতিহাস
  • স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙ্গে যায় কি ?
  • রোজা ভঙ্গের কারণ ১৯টি: জানুন আপনার রোজা সঠিক হচ্ছে কি না
  • রোজা রাখার নিয়ত এবং ইফতারের দোয়া ২০২৬
  • রোজা কত তারিখে ২০২৬: সম্ভাব্য সময়সূচী ও ক্যালেন্ডার
  • কে এই কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইন
  • डोलयात्रा 2026: तिथि, महत्व, इतिहास और उत्सव की पूरी जानकारी
  • শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও নিয়ত | শবে বরাতের আমল ও ফজিলত
  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার হিসাব
  • সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ ব্যাংক
  • টপ ৫ ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইন বাংলাদেশ: আপনার নিরাপত্তার সঠিক সঙ্গী বেছে নিন
  • গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা
  • ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পলিসি চেক করার সহজ নিয়ম ২০২৬
  • ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা: পলিসি খোলার আগে যে ১০টি বিষয় না জানলেই নয়
© 2026 Ajker Bongo.

Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.