বর্তমান সময়ের অনিশ্চিত জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আপনার এবং আপনার পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি ভালো মানের বীমা বা Insurance পলিসি গ্রহণ করতে চান, তবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড হতে পারে একটি চমৎকার পছন্দ। বাংলাদেশের বীমা খাতে এটি একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং পুরোনো প্রতিষ্ঠান। অনেকেই বীমা করার আগে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন যে আসলে কোন কোম্পানিতে টাকা রাখা নিরাপদ হবে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা, পলিসির ধরণ, প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার নিয়ম এবং বীমা দাবির টাকা পাওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি এই কোম্পানির কোনো স্কিম গ্রহণ করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য একটি কমপ্লিট গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি দীর্ঘ সময় ধরে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। এদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমানো এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা। সারাদেশে এদের হাজার হাজার কর্মী এবং অসংখ্য শাখা অফিস রয়েছে, যার ফলে গ্রাহকরা খুব সহজেই সেবা পেতে পারেন। এই কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এবং এর আর্থিক ভিত্তি বেশ মজবুত। তাই এখানে বিনিয়োগ করা বা পলিসি খোলা অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশ নিরাপদ।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা সমূহ
মানুষ কেন ব্যাংকে টাকা না রেখে বীমা কোম্পানিতে টাকা রাখবে? এর প্রধান কারণ হলো বীমার বহুমুখী সুবিধা। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি শুধুমাত্র একটি সঞ্চয় নয় বরং বিপদের বন্ধু। নিচে এই কোম্পানির পলিসি গ্রহণ করার প্রধান সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:
১. আর্থিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
জীবন বীমার প্রধান কাজ হলো জীবনের ঝুঁকি বহন করা। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর যেকোনো পলিসি চালু থাকা অবস্থায় যদি বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে তার পরিবার বা নমিনি পুরো বীমার টাকা (সাম অ্যাসিওর্ড) এবং অর্জিত বোনাস একসাথে পান। এটি পরিবারের বিপদের সময়ে একটি বড় আর্থিক স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে এই টাকা সংসার চালাতে বা সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
২. আকর্ষণীয় বোনাস ও মুনাফা
এই কোম্পানিটি তাদের গ্রাহকদের ভালো মানের বোনাস প্রদান করে থাকে। প্রতি বছর কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করার পর পলিসি হোল্ডারদের একাউন্টে বোনাস যুক্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদী পলিসির ক্ষেত্রে এই বোনাসের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে। মেয়াদ শেষে মূল টাকার সাথে এই বোনাস যুক্ত হয়ে একটি বড় অংকের টাকা পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কাজে লাগে।
৩. আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স রেয়াত সুবিধা
চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আয়কর রেয়াত। আপনি বছরে যে পরিমাণ টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে জমা দেবেন, তার ওপর আপনি নির্দিষ্ট হারে ইনকাম ট্যাক্স রিবেট বা ছাড় পাবেন। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বীমার প্রিমিয়াম জমার রশিদ প্রদর্শন করলে আপনার করের বোঝা অনেকটাই কমে যাবে। এটি বৈধভাবে ট্যাক্স বাঁচানোর একটি সেরা উপায়।
৪. পলিসি জামানত রেখে লোন সুবিধা
অনেক সময় আমাদের হঠাৎ করে টাকার প্রয়োজন হয়। তখন পলিসি ভেঙে ফেলার কথা মনে হতে পারে। কিন্তু ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর পলিসি থাকলে আপনাকে পলিসি ভাঙতে হবে না। পলিসির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে এবং নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা থাকলে, আপনি আপনার পলিসির সমর্পণ মূল্যের (Surrender Value) ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। এই লোন খুব সহজ শর্তে এবং কম সুদে পাওয়া যায়, যা ব্যাংকের জটিল লোন প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক সহজ।
৫. পেইড-আপ পলিসি সুবিধা
কোনো কারণে যদি আপনি কিছুদিন পর আর প্রিমিয়াম চালাতে না পারেন, তবুও আপনার জমানো টাকা নষ্ট হবে না। নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ২ বছর) প্রিমিয়াম দেওয়ার পর পলিসিটি একটি পেইড-আপ পলিসিতে রূপান্তর করা যায়। এতে মেয়াদ শেষে আপনি আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত পাবেন। অর্থাৎ আপনার বিনিয়োগ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর জনপ্রিয় পলিসি সমূহ
গ্রাহকদের চাহিদা এবং সামর্থ্য বিবেচনা করে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স বিভিন্ন ধরণের পলিসি বা স্কিম চালু করেছে। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা পুরোপুরি পেতে হলে আপনাকে সঠিক পলিসিটি বেছে নিতে হবে। নিচে জনপ্রিয় কিছু পলিসি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
সাধারণ এনডাওমেন্ট বা মেয়াদী বীমা
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পলিসি। ১০, ১২, ১৫ বা ২০ বছর মেয়াদে এই বীমা করা যায়। এতে সঞ্চয় এবং সুরক্ষা—দুটো সুবিধাই পাওয়া যায়। মেয়াদ শেষে বোনাসসহ টাকা ফেরত পাওয়া যায়, আবার মেয়াদের মধ্যে মৃত্যু হলে নমিনি পুরো টাকা পান।
শিশু সুরক্ষা বা শিক্ষা বীমা
সন্তানের উচ্চ শিক্ষার খরচ মেটানোর জন্য এই পলিসিটি সেরা। সন্তানের নামে বীমাটি করা হয় এবং অভিভাবক প্রিমিয়াম দাতা হিসেবে থাকেন। যদি অভিভাবকের মৃত্যু হয়, তবে আর কোনো প্রিমিয়াম দিতে হয় না, উল্টো কোম্পানি থেকে বৃত্তি দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষে পুরো টাকা সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তিন কিস্তি বীমা বা প্রত্যাশা বীমা
যাদের নির্দিষ্ট সময় পর পর টাকার দরকার হয়, তাদের জন্য এটি দারুণ। এই পলিসিতে মেয়াদের মাঝখানে কয়েক ধাপে টাকা ফেরত পাওয়া যায়। যেমন—১২ বছর মেয়াদী পলিসিতে ৪ বছর ও ৮ বছর পর নির্দিষ্ট শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যায় এবং ১২ বছর শেষে বাকি টাকা ও বোনাস পাওয়া যায়।
পেনশন বীমা পলিসি
বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক স্বাধীনতার জন্য পেনশন পলিসি করা জরুরি। নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রিমিয়াম দেওয়ার পর, আজীবন বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক হারে পেনশন পাওয়া যায়। যারা সরকারি চাকরি করেন না, তাদের জন্য এটি বার্ধক্যের লাঠি হিসেবে কাজ করে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স পলিসি প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার নিয়ম
বর্তমানে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা ভোগ করা আরও সহজ হয়েছে কারণ তারা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। আগে শুধুমাত্র অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হতো। এখন আপনি ঘরে বসেই প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন।
বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে:
এখন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই প্রিমিয়াম দেওয়া যায়। অ্যাপে ঢুকে ‘Pay Bill’ অপশন থেকে National Life Insurance সিলেক্ট করে পলিসি নাম্বার দিলেই টাকার পরিমাণ চলে আসবে। পেমেন্ট করার পর সাথে সাথে ডিজিটাল রিসিট পাওয়া যায়।
ব্যাংকের মাধ্যমে:
কোম্পানির নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় গিয়েও জমা স্লিপ পূরণ করে টাকা জমা দেওয়া যায়। এছাড়াও অনলাইন ব্যাংকিং বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেও ওয়েবসাইটে গিয়ে পেমেন্ট করা সম্ভব। নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা দিলে পলিসি ল্যাপস হওয়ার ভয় থাকে না এবং বোনাস ঠিকমতো পাওয়া যায়।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স চেক করার নিয়ম
অনেকেই বীমা করার পর দুশ্চিন্তায় থাকেন যে তার টাকা ঠিকমতো জমা হচ্ছে কি না। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর পলিসি স্ট্যাটাস চেক করা এখন খুব সহজ।
১. ওয়েবসাইট ভিজিট: কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Policy Status’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আপনার পলিসি নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিলে আপনার প্রিমিয়ামের সর্বশেষ অবস্থা, মোট জমানো টাকা এবং পরবর্তী প্রিমিয়ামের তারিখ দেখা যাবে।
২. মোবাইল অ্যাপ: গুগল প্লে স্টোর থেকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর অ্যাপ নামিয়ে সেখানে লগইন করে সব তথ্য দেখা যায়।
৩. এসএমএস সার্ভিস: নিবন্ধিত মোবাইল নাম্বার থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়েও পলিসির তথ্য জানা সম্ভব।
বীমা দাবি বা ক্লেইম করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
বীমা করার মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রয়োজনের সময় টাকা পাওয়া। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। তবে সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন। দাবি বা ক্লেইম সাধারণত দুই ধরনের হয়:
১. মেয়াদ পূর্তিতে দাবি (Maturity Claim)
পলিসির মেয়াদ শেষ হলে আপনি টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। এর জন্য যা যা লাগবে:
- মূল পলিসি দলিল (Original Policy Bond)।
- সর্বশেষ প্রিমিয়াম জমার রশিদ।
- বয়সের প্রমাণের কপি (NID/Birth Certificate)।
- ব্যাংক একাউন্ট ডিটেইলস (চেকের ফটোকপি)।
- দাবি ফরম পূরণ করে অফিসে জমা দিতে হবে।
সাধারণত আবেদন করার ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে আসে (BEFTN এর মাধ্যমে)।
২. মৃত্যু দাবি (Death Claim)
পলিসি চলাকালীন বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে নমিনি এই দাবি করবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- মৃত্যু সনদ (Death Certificate)।
- ডাক্তারের রিপোর্ট বা হাসপাতালের ছাড়পত্র (যদি হাসপাতালে মারা যান)।
- নমিনি এবং বীমা গ্রহীতার এনআইডি কার্ড।
- পলিসি দলিল এবং জমার রশিদ।
- ওয়ারিশান সনদ (প্রয়োজন সাপেক্ষে)।
মৃত্যু দাবির ক্ষেত্রে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোম্পানি নমিনির নামে চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার করে দেয়।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স বনাম অন্যান্য সঞ্চয় মাধ্যম
মানুষ প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ব্যাংকে ডিপিএস (DPS) করা ভালো নাকি লাইফ ইন্সুরেন্স করা ভালো? ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা এবং ব্যাংকের সঞ্চয়ের মধ্যে একটি তুলনামূলক ছক নিচে দেওয়া হলো যা আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:
| বিষয় | ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স | ব্যাংকের ডিপিএস/সঞ্চয়পত্র |
| ঝুঁকি কভারেজ | মৃত্যু ঝুঁকি বা দুর্ঘটনার কভারেজ থাকে। | কোনো মৃত্যু ঝুঁকি কভারেজ নেই। |
| টাকা ফেরত | নমিনি পুরো বীমা অংক + বোনাস পান (অকাল মৃত্যুতে)। | শুধুমাত্র জমানো টাকা + সামান্য সুদ পাওয়া যায়। |
| কর রেয়াত | প্রিমিয়ামের ওপর ইনকাম ট্যাক্স ছাড় পাওয়া যায়। | ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা নেই (বরং লাভের ওপর ট্যাক্স কাটে)। |
| উদ্দেশ্য | দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা এবং সঞ্চয়। | স্বল্প বা মধ্যমেয়াদী সঞ্চয়। |
| লোন সুবিধা | পলিসির বিপরীতে ৯০% লোন পাওয়া যায়। | ডিপিএস এর বিপরীতেও লোন নেওয়া যায়। |
উপরের ছক থেকে স্পষ্ট যে, শুধুমাত্র টাকা জমানোই যদি উদ্দেশ্য হয় তবে ব্যাংক ভালো হতে পারে। কিন্তু যদি টাকার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা চান, তবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স সেরা।
গ্রাহক সেবা এবং হেল্পলাইন
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি তাদের গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করছে। তাদের একটি ডেডিকেটেড কল সেন্টার রয়েছে। যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা তথ্যের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে তাদের হেল্পলাইনে কল করা যায়। এছাড়া প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে তাদের জোনাল অফিস রয়েছে। সেখানে গিয়েও সরাসরি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যায়। বীমা করার সময় অবশ্যই পরিচিত এবং বিশ্বস্ত এজেন্টের মাধ্যমে করা উচিত, যাতে পরবর্তীতে সেবা পেতে সুবিধা হয়। তবে মনে রাখবেন, টাকা সবসময় অফিস কাউন্টারে বা ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দেবেন, এজেন্টের হাতে নগদ টাকা না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করার জন্য একটি ভালো মানের বীমা পলিসি থাকা অত্যন্ত জরুরি। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর সুবিধা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়, কর রেয়াত এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তবে আজই একটি পলিসি গ্রহণ করতে পারেন। তবে পলিসি খোলার আগে অবশ্যই শর্তাবলী ভালো করে পড়ে নেবেন এবং আপনার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করবেন। নিয়মিত প্রিমিয়াম চালিয়ে গেলে মেয়াদ শেষে এটি আপনার জন্য একটি বড় সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে। মনে রাখবেন, বীমা কোনো খরচ নয়, এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্মার্ট বিনিয়োগ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কি সরকারি না বেসরকারি?
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, অর্থাৎ এটি বেসরকারি খাতের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে এটি সরকার অনুমোদিত এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর পলিসি ল্যাপস হলে করণীয় কি?
যদি কোনো কারণে আপনি সময়মতো প্রিমিয়াম দিতে ভুলে যান এবং পলিসি ল্যাপস হয়ে যায়, তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনি বকেয়া প্রিমিয়াম এবং সামান্য কিছু লেট ফি বা জরিমানা দিয়ে পুনরায় পলিসিটি চালু (Revive) করতে পারবেন। তবে খুব বেশি দেরি না করাই ভালো।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স বোনাস কত দেয়?
বোনাসের হার প্রতি বছর কোম্পানির ব্যবসায়িক লাভের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। সাধারণত প্রতি হাজার টাকার বীমা অংকের ওপর ভিত্তি করে বোনাস ঘোষণা করা হয়। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স দীর্ঘমেয়াদী পলিসিতে বেশ ভালো হারের বোনাস প্রদান করে থাকে।
আমি কি অনলাইনে পলিসি খুলতে পারি?
হ্যাঁ, বর্তমানে ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স এর ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে ই-ইন্সুরেন্স বা অনলাইন পলিসি খোলার সুযোগ রয়েছে। এতে কোনো এজেন্টের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি কোম্পানির সাথে পলিসি করা যায়।
নমিনি কি পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ, পলিসি চলাকালীন যেকোনো সময় আপনি চাইলে নমিনি পরিবর্তন করতে পারেন। এর জন্য অফিসে একটি লিখিত আবেদন করতে হবে এবং নতুন নমিনির ছবি ও পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।