৬. পংক্তি ও উক্তি — মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত অমর চরণসমূহ
বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বিখ্যাত পংক্তি ও উক্তি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পূর্ণাঙ্গ স্টাডি গাইডে বিখ্যাত পংক্তি ও উক্তি-এর প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী, আলোচনা ও বিগত সালের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বিসিএস প্রিলিতে বিভিন্ন মহৎ কবি-সাহিত্যিকদের কালজয়ী পংক্তি তুলে দিয়ে রচয়িতার নাম জানতে চাওয়া অত্যন্ত সাধারণ বিষয়।
বিখ্যাত পংক্তি ও উক্তি: 📜 মধ্যযুগের অমর পংক্তিসমূহ
- “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” ➔ বড়ু চণ্ডীদাস
- “মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান।” ➔ কাশীরাম দাস
- “যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” ➔ আবদুল হাকিম (নূরনামা কাব্য)
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” ➔ ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- “রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।” ➔ জ্ঞানদাস
- “জনম অবধি হাম রূপ নেহারনু নয়ন না তিরপিত ভেল।” ➔ বিদ্যাপতি
🖋️ আধুনিক যুগের বিখ্যাত চরণসমূহ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- “হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; তা সবে, অবোধ আমি, অবহেলা করি…”
- “রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।”
- “সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে…”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।”
- “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”
- “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”
- “বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা / বিপদে আমি না যেন করি ভয়।”
- “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” (সভ্যতার সংকট প্রবন্ধ)
কাজী নজরুল ইসলাম
- “বল বীর— বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!”
- “গাহি সাম্যের গান— যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান।”
- “তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না / কোলাহল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।” (বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি)
জীবনানন্দ দাশ
- “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে…”
- “পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।”
- “সকলই ফুরায়, এ জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।”
📝 মডেল টেস্ট (BCS Model Test)
১. “যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” — চরণ দুটি কার?
- (ক) আলাওল
- (খ) আবদুল হাকিম
- (গ) শাহ মুহম্মদ সগীর
- (ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: সপ্তদশ শতকের কবি আবদুল হাকিম তাঁর ‘নূরনামা’ কাব্যে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে এই পংক্তি রচনা করেন।
২. “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” — কার রচনা?
- (ক) বিদ্যাপতি
- (খ) চণ্ডীদাস
- (গ) জ্ঞানদাস
- (ঘ) গোবিন্দদাস
💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের এই পংক্তিটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবিক বাণী।
৩. “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে” — চরণটি কার?
- (ক) জীবনানন্দ দাশ
- (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
- (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- (ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যের অন্তর্গত ‘প্রাণ’ কবিতার বিখ্যাত প্রথম চরণ।
৪. “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে…” — পংক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন রচনার অংশ?
- (ক) আফ্রিকা
- (খ) বাঁশী
- (গ) নৈবেদ্য
- (ঘ) সঞ্চয়িতা
💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের সুপ্রসিদ্ধ নীতিবাদী চরণ।
৫. “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে” — কার কবিতা?
- (ক) জীবনানন্দ দাশ
- (খ) বুদ্ধদেব বসু
- (গ) শামসুর রাহমান
- (ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
💡 সঠিক উত্তর: (ক) | ব্যাখ্যা: জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’-এর সূচনা চরণ।