Bangla LiteratureJob Preparation

১. মধ্যযুগ — মঙ্গলকাব্য, অন্ধকার যুগ, বৈষ্ণব পদাবলী, আরাকান রাজসভা ও মডেল টেস্ট

বিসিএস প্রিলিমিনারি ও সকল সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পূর্ণাঙ্গ স্টাডি গাইডে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-এর প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী, আলোচনা ও বিগত সালের পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘতম ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অধ্যায় হলো মধ্যযুগ। ১২০১ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এই যুগের বিস্তার।


বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ: ⏳ অন্ধকার যুগ বিতর্ক (১২০১ – ১৩৫০ খ্রি.)

তুর্কি বিজয়ের পরবর্তী ১৫০ বছরকে সাহিত্যে সৃজনশীলতার স্থবিরতার জন্য পণ্ডিতগণ ‘অন্ধকার যুগ’ বা ‘বন্ধ্যা যুগ’ বলে অভিহিত করেন।

  • তবে এ যুগেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল:
  • রামাই পণ্ডিত ➔ শূন্যপুরাণ (চম্পূকাব্য: গদ্য-পদ্য মিশ্রিত)।
  • হলায়ুধ মিশ্র ➔ সেকশুভোদয়া (সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে পীর মাহাত্ম্যভিত্তিক গ্রন্থ)।
  • ডাক ও খনার বচন (কৃষি ও লোকজীবনের ছড়া)।

📜 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন

  • রচয়িতা: বড়ু চণ্ডীদাস (কবির আসল নাম অনন্ত)।
  • চরিত্র: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দুতী)।
  • আবিষ্কার: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে পুথিটি আবিষ্কার করেন।
  • প্রকাশ: ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

🌺 মঙ্গলকাব্য — মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ধারা

মঙ্গলকাব্য মূলত দেব-দেবীর মাহাত্ম্যসূচক আখ্যানকাব্য।
1. মনসামঙ্গল:

  • আদি কবি: কানাহরি দত্ত। শ্রেষ্ঠ কবি: বিজয়গুপ্ত (পদ্মাপুরাণ)।
  • অন্য কবি: নারায়ণ দেব, কেতকাদাস ক্ষেনানন্দ।
  • চরিত্র: চাঁদ সওদাগর, মনসা দেবী, বেহুলা ও লখিন্দর।

2. চণ্ডীমঙ্গল:

  • আদি কবি: মাণিক দত্ত। শ্রেষ্ঠ কবি: কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
  • চরিত্র: কালকেতু ও ফুল্লরা (ব্যাধ খণ্ড), ধনপতি সওদাগর ও খুল্লনা (বণিক খণ্ড)।

3. অন্নদামঙ্গল:

  • রচয়িতা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (মধ্যযুগের শেষ বড় কবি)।
  • বিখ্যাত চরিত্র: ঈশ্বরী পাটুনী (উক্তি: “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে”)।

🏰 আরাকান রাজসভা ও মুসলিম কবিগণ

  • মধ্যযুগে চট্টগ্রাম সংলগ্ন আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে:
  • দৌলত কাজী: প্রথম কবি। রচনা করেন ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
  • আলাওল: শ্রেষ্ঠ কবি। মাগন ঠাকুরের নির্দেশে ফারসি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত’ অবলম্বনে রচনা করেন অমর কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮)।
  • শাহ মুহম্মদ সগীর: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। রচনা করেন ‘ইউসুফ-জোলেখা’।

📝 মডেল টেস্ট (BCS Model Test)

১. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নির্দেশন কোনটি?

  • (ক) চর্যাপদ
  • (খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  • (গ) শূন্যপুরাণ
  • (ঘ) পদ্মাবতী

💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের আদি ও প্রথম নিদর্শন (চর্যাপদ হলো প্রাচীন যুগের)।

২. “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” — এই প্রার্থনাটি কার?

  • (ক) বেহুলা
  • (খ) ফুল্লরা
  • (গ) ঈশ্বরী পাটুনী
  • (ঘ) খুল্লনা

💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যে মাঝি ঈশ্বরী পাটুনী দেবী অন্নপূর্ণার কাছে এই বর প্রার্থনা করেছিলেন।

৩. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?

  • (ক) দৌলত কাজী
  • (খ) আলাওল
  • (গ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  • (ঘ) সাবিরিদ খাঁ

💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: মহাকবি আলাওল আরাকান রাজসভায় বসে ১৬৪৮ সালে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।

৪. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছিল?

  • (ক) নেপালের রাজদরবার থেকে
  • (খ) বাঁকুড়ার একটি গোয়ালঘর থেকে
  • (গ) শান্তিনিকেতন থেকে
  • (ঘ) তিব্বতের বৌদ্ধ মঠ থেকে

💡 সঠিক উত্তর: (খ) | ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে এটি উদ্ধার করেন।

৫. মধ্যযুগের শেষ কবি কাকে বলা হয়?

  • (ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  • (খ) রামাই পণ্ডিত
  • (গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  • (ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

💡 সঠিক উত্তর: (গ) | ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭৬০ সালে মৃত্যু) মধ্যযুগের শেষ কবি হিসেবে স্বীকৃত।

👨‍🏫

লেখক ও সংকলক পরিচিতি

Mohammad Sakhaoat Hosain

Instructor (English)
Hajiganj Government Technical School and College

Former Lecturer in English
Dhaka International University

Related Articles

Back to top button