News

শীতকালে সর্দি-কাশি কেন বাড়ে? নাকের প্রতিরোধ ক্ষমতার চমকপ্রদ রহস্য

শীতকাল মানেই সর্দি, কাশি, ঠান্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বৃদ্ধি। শীতের প্রথম হাওয়া বইতেই চারপাশে সবাই হাঁচি-কাশি শুরু করে দেয়। তবে কি শুধুই ঠান্ডা আবহাওয়া এর জন্য দায়ী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, শীতকালে নাকের ভেতরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই শীতের সময় ঠান্ডা, ফ্লু এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা বেশি হয়।

শীতের ঠান্ডা নাকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কীভাবে প্রভাবিত করে?

সম্প্রতি করা এক গবেষণায় জানা গেছে, শীতের ঠান্ডা বাতাস নাকের প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। নাকের তাপমাত্রা মাত্র ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) কমে গেলে নাকের ভেতরে থাকা জীবাণুনাশক কোষগুলোর ৫০% পর্যন্ত কার্যক্ষমতা হারায়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওটোল্যারিঞ্জোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জারা প্যাটেলের মতে, “এটি প্রথমবারের মতো একটি জৈবিক ও মোলিকুলার ব্যাখ্যা যা দেখায় কেন শীতল আবহাওয়া নাকের প্রাথমিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সীমিত করে।”

পড়ুন আজকের আবহাওয়া শৈত্যপ্রবাহ

নাকের প্রতিরোধ ব্যবস্থা: জীবাণু মোকাবিলার প্রথম লাইন

নাক আমাদের শরীরে জীবাণু প্রবেশের মূল পথ। যখন কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নাকে প্রবেশ করে, তখন নাকের সামনের অংশ দ্রুত সেটি সনাক্ত করে। এই পর্যায়ে, নাকের কোষগুলো নিজেকে ক্লোন করে বিলিয়ন সংখ্যক extracellular vesicles (EVs) তৈরি করে।

ড. বেঞ্জামিন ব্লাইয়ার, গবেষণার সহ-লেখক, ব্যাখ্যা করেছেন, “EVs হলো ছোট ছোট কোষীয় কণা যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এগুলো ভাইরাসের মতো দেখতে, তাই ভাইরাসগুলো মূল কোষের পরিবর্তে এই EVs-এ আটকে যায়।”

ঠান্ডা আবহাওয়া EVs-এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়

শীতল পরিবেশে, নাকের ভেতরের তাপমাত্রা কমে গেলে EVs-এর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা বাতাস নাকের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমিয়ে দিলে:

  1. EVs-এর সংখ্যা প্রায় ৪২% হ্রাস পায়।
  2. প্রতিরোধী রিসেপ্টরের পরিমাণ ৭০% কমে যায়।
  3. ভাইরাস ধ্বংসকারী মাইক্রো RNA-এর কার্যকারিতা প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

শীতকালে রোগ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন:

  • মাস্ক ব্যবহার করুন: মাস্ক শুধু ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয় না, এটি নাকের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • গরম পোশাক পরিধান করুন: নাক এবং মুখ গরম রাখলে প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো কাজ করে।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করুন: পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং শারীরিক ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ভবিষ্যৎ চিকিৎসার সম্ভাবনা

গবেষণার এই নতুন আবিষ্কার ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এমন নাকের স্প্রে তৈরি হতে পারে যা নাকের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ধরনের চিকিৎসা শীতকালীন সর্দি-কাশি এবং ফ্লুর প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপসংহার

শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া শুধুমাত্র পরিবেশগত প্রভাব নয়, এটি আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। শীতকালে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে গরম পোশাক এবং মাস্ক ব্যবহার করার পাশাপাশি, স্বাস্থ্য সচেতন হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button